Tuesday, January 17, 2012

Identifying issues of national interest - a precondition for achieving national unity and prosperity


বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুগুলো চিন্হিতকরণ- জাতীয় ঐক্য ও সমৃদ্ধি অর্জনের পূর্বশর্ত

মেজর ফারুক (অবঃ) 

আমরা যদি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলো সনাক্ত করতে সক্ষম হই এবং সেগুলো রক্ষায় ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলসমূহের ভূমিকা মূল্যায়ন করি- তাহলে দেখতে পাবো যে, আমাদের অনেক জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থই বর্তমান সরকার কর্তৃক সমর্পন করা হয়েছে এবং বিরোধী দল কোন কার্যকরী ও সময়োপযোগী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহন থেকে বিরত থাকায় সরকার সেসব দেশবিরোধী কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহায়ক পরিস্থিতি ভোগ করেছে।

বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতায় যাবার এবং ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার দলাদলীকে এবং প্রতি পাঁচ বছর মেয়াদান্তে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান করাকেই এখন গণতন্ত্র বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে; অথচ সরকার গঠন করার পর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনকে দলীয় প্রভাব থেকে মুক্ত রেখে জনসেবায় নিয়োজিত করা, বিরোধী দলসমূহের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অধিকারকে হামলা-মামলা দিয়ে দমন না করা, মত প্রকাশের অধিকারকে রিমান্ডে না নেয়া, দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষায় রাষ্ট্রকে নিয়োজিত করা, অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অবিচল থাকা এবং দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করা- এ বিষয়গুলোকে গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য হিসেবে অগ্রাহ্য করা হচ্ছে। এমনকি সরকার কর্তৃক দেশের অস্তিত্ব বিনাশী চুক্তি ও পদক্ষেপও বিনা বাধায় বাস্তবায়িত হয়ে চলেছে।  

বাংলাদেশে লক্ষ-কোটি ত্যাগী ও সংগ্রামী দেশপ্রেমীক নাগরিক থাকলেও ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ১৬ কোটি মানুষের এ দেশটি আজ একটি অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে পরিগণিত হতে চলেছে। পরিণামে জাতির ললাটে নেপাল-ভূটান ও সিকিমের ভাগ্যই শুধু অপেক্ষমান।

চলতি নিবন্ধে আমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু সনাক্ত করার চেষ্টা করবো এবং সেসব ইস্যুতে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা সংক্ষেপে তুলে ধরবো।

১। বহিঃশক্তির হাত থেকে নাগরিকদের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষা করাঃ

রাষ্ট্রের দায়িত্ব যে কোন বহিঃশক্তির হাত থেকে প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষা করা। কিন্তু আমাদের দেশে দেখতে পাই- সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ পাখির মত গুলি করে বাংলাদেশের নাগরিকদেরকে হত্যা করছে; গত ৩ বছরে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০৩ জন। গত দশ বছরে বিএসএফ এক হাজারেরও বেশী বাংলাদেশী নাগরিককে হত্যা করেছে, আহত করেছে ততোধিক, অপহরন করেছে শত শত, ধর্ষন করেছে আমাদের অসংখ্য মা-বোনকে। কিশোরী ফেলানীকে গুলি করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখলেও ক্ষমতাসীন সরকার এসব হত্যা ও নির্যাতনের কোন কার্যকর প্রতিবাদ বা প্রতিকার নিশ্চিত করেনি। বিরোধী দল শুধুমাত্র গোলটেবিল বৈঠকে মাঝে মাঝে কিছু লিপ-সার্ভিসিং দিয়ে দায়িত্ব সমাধা করেছে। সম্প্রতি বিএসএফ- এর ডিজি ঢাকায় এসে উপদেশ দিয়ে গেছেন- বিএসএফ কর্তৃক সংঘটিত এসব হত্যাকান্ডকে আমরা যেন হত্যা না বলে সাধারন মৃত্যু বলে আক্ষায়িত করি।

অথচ, নাগরিকের জীবন রক্ষায় একটি রাষ্ট্র কতখানি গুরুত্ব দিতে পারে তার উদাহরন আমরা দেখতে পাই- গিলাদ শালিত নামে ইসরায়েলী একজন সেনাকে বন্দী করার দায়ে ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের গাজা সিটি আক্রমন করে ১৪০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে, ট্যাংক ও বোমার আঘাতে গুড়িয়ে দিয়েচে ৬ হাজারের বেশী দালান, অবশেষে ১০২৭ জন ফিলস্তিনি বন্দীর মুক্তির বিনিময়ে ছাড়িয়ে এনেছে সেই সেনাকে। অন্যদিকে বিএসএফ ফেলানীদেরকে হত্যা করলেও আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফেলানীকে নিজস্ব নাগরিক বলেই স্বীকার করতে চান না। এ থেকেই বুঝা যায়- নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষায় আমাদের সরকার ও বিরোধী দল কতটুকু গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।  

২। বিচারবহির্ভূত ত্যা, গুম ও ক্রসফায়ার বন্ধকরনঃ

দেশে বিচার বিভাগের সমান্তরালে চালু হয়েছে আরেকটি বিচার ব্যবস্থা- যা নাগরিককে আটকাবস্থায় হত্যা, ক্রসফায়ার ও গুম করে ফেলার ক্ষমতাপ্রাপ্ত। অধিকারের রিপোর্ট অনুযায়ী - আওয়ামী সরকারের গত তিন বছরে ৩৬৫ জনেরও বেশী ক্রসফায়ারে হত্যার শিকার হয়েছে, গুম হয়েছে ৩০ জন, কারাগারে ও আটকাবস্থায় এডভোকেট মমতাজসহ নির্যাতনে মারা গেছে ২১৫ জন। স্বাধীন বাংলাদেশে ক্রসফায়ার কালচার চালু হয় ১৯৭২-৭৫ সময়কালে যখন প্রায় ৪০ হাজার বিরোধীদলীয় কর্মীকে রক্ষী বাহিনী হত্যা করাছিল; সর্বহারা পার্টির প্রধান বিপ্লবী কমরেড সিরাজ সিকদারকে বন্দী অবস্থায় গুলি করে হত্যা করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সংসদে সদম্ভে উচ্চারণ করেছিলেন-কোথায় আজ সিরাজ সিকদার।  

বিএনপির গত সরকার এবং ১/১১-এর অবৈধ সরকারের মেয়াদে সংঘটিত ক্রসফায়ারের প্রতিবাদে শেখ হাসিনা সোচ্চার থাকলেও এখন লংকায় গিয়ে তিনি যেন নিজেই রাবন সেজে বসেছেন। এ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইট ওয়াচ ইত্যাদি মানবাধিকার সংস্থা সরকারের এ প্যারালাল বিচার ব্যবস্থা বন্ধের আহবান জানালেও সরকার বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের মনে আতংক জিইয়ে রাখার উদ্দেশ্যেই এ মানবতাবিরোধী দমন কৌশল বজায় রেখে চলেছে।

৩। করিডোর প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমতব রক্ষাকরনঃ 

নাগরিকদের জীবন রক্ষার মতই রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা না হলে সে রাষ্ট্র শুধুমাত্র নাম ও পতাকা সর্বস্ব রাষ্ট্রে পরিণত হতে বাধ্য। বর্তমান সরকার দেশের অর্থনৈতিক কৌশলগত সম্পদ চট্টগ্রাম ও মংলা সমূদ্রবন্দর, ভৈরব নদীবন্দর, সড়ক ও রেলপথ ইত্যাদি ব্যবহারের মাধ্যমে পণ্য ও সামরিক কনভয় চলাচলের জন্য ভারতকে কৌশলে করিডোর প্রদান করেছে। শেখ হাসিনা ২০১০ সালে ভারতে গিয়ে ৫০টি গোপন বিষয়ে সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর করে এসেছেন- যে বিষয়ে জাতি এখনো অন্ধকারে। ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মনমোহন-হাসিনা স্বাক্ষরিতসহযোগিতার জন্য কাঠামো চুক্তি-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বুক চিড়ে ট্রানজিট-করিডোর প্রদান সহ বাংলাদেশের অর্থনীতি, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, সামরিক ক্ষেত্র ইত্যাদি সকল সেক্টরে ভারতের অনুপ্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া হয়েছে; চিরস্থায়ী হিসেবে স্বাক্ষরিত ঐ চুক্তি বাতিলের অধিকারও বাংলাদেশের হাতে রাখা হয়নি।

করিডোর দেয়ার ফলে বাংলাদেশী পণ্য ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় ৭ রাজ্যে বাজার হারাতে বসেছে। সরকার,  অর্থমন্ত্রী জনাব মুহিত ঘোষিত কিছু একটা নেবার বিনিময়ে ভারতকে এ করিডোর দিয়ে বাংলাদেশের বন্দর- শ্রমিকদের জন্য মজুরী উপার্জনের ব্যবস্থা করেছে বলে দাবী করছে। অর্থাৎ, দেশের বানিজ্যিক সমূদ্র বন্দরসহ সড়ক ও রেলপথ ভারতের কাছে ইজারা দিয়ে সরকার বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের উপর চরম আঘাত এনেছেন এবং হাসিনা-মনমোহন চুক্তির মাধ্যমে জাতিকে চিরস্থায়ী গোলামীর জিঞ্জিরে আবদ্ধ করেছেন।

তিতাস নদীর উপর বাঁধ দিয়ে ভারতের পণ্যবাহী লরী চলাচল করছে। আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক দেশের এত বড় স্বার্থহানি এবং অস্তিত্ব-বিনাশী করিডোর প্রদান ও চিরস্থায়ী গোলামী চুক্তি স্বাক্ষর করা হলেও বিরোধী দল কোন কার্যকরী ভূমিকা নেয়া থেকে নিজেদেরকে দূরে রেখেছেন। অথচ, জাতির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য বাংলাদেশের স্বার্থ-সমর্পনকারী দালালদের সনাক্ত করে প্রতিহত করা জরুরী।  

জাতীয়তাবাদীদের মধ্যে অনেকে আছেন- যারা জাতীয় নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বকে অগ্রাহ্য করে শুধুমাত্র আর্থিকভাবে লাভবান হলেই ভারতকে করিডোর দেয়া যায় বলে মনে করেন- সেসব বর্ণচোরা দালালদের সনাক্ত করাও জরুরী।

৪। পার্বত্য চট্টগ্রামের অখন্ডতা, সার্বভৌমত্ব এবং নাগরিকদের নাগরিক অধিকার রক্ষা করাঃ

পার্বত্য চট্টগ্রাম আয়তনে বাংলাদেশের দশভাগের একভাগ; এখানে ৭ লক্ষ বাঙ্গালী এবং ১৩টি উপজাতি মিলে ৫ লক্ষ - সর্বমোট ১২ লক্ষ লোকের বাস। ভারতের প্রত্যক্ষ সহায়তায় ১৯৭৫ সাল থেকে কিছু উগ্রপন্থী উপজাতির নেতৃত্বে সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং বাঙ্গালী নিধন তৎপরতা চলছে। ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সরকার চাকমা সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলের প্রধান সন্তু লারমার সাথে পার্বত্য শান্তি চুক্তি নামে এক কালো চুক্তি স্বাক্ষর করে  যার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে উপজাতীয় এলাকা হিসেবে ঘোষনা দিয়ে সেখানে উপজাতীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করা হয় এবং পার্বত্য বাঙ্গালীদেরকে নাগরিক অধিকার-বিহীন দ্বিতীয় শ্রেনীর জনগোষ্ঠীতে পরিণত করা হয়।  

চুক্তির পূর্বে প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে হত্যা করা ছাড়াও চুক্তির পর এযাবত ৭০০-এরও বেশী মানুষকে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে এবং ১৩০০-এরও বেশী মানুষকে অপহরন করেছে। ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসেও ৬ জন পার্বত্য বাঙ্গালীকে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা অপহরন করে নিয়ে যায়, যাদের মধ্যে ২ জনের লাশ এযাবত পাওয়া গেছে। আওয়ামী সরকার সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দখলে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম ছেড়ে দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী তুলে আনার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসত করা বা ভোটার হবার জন্য উপজাতীয় হেডম্যান/চেয়ারম্যান ও সার্কেল চীফদের কাছ থেকে সার্টিফিকেট প্রাপ্তির শর্তারোপ করে পার্বত্য বাঙ্গালীদেরকে উপজাতিদের মুখাপেক্ষী করা হয়েছে। দেশের ১৬ কোটি নাগরিকের সংবিধান প্রদত্ত নাগরিক অধিকার পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্বীকৃত। দেশের হাইকোর্ট পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ আইনকে অসাংবিধানিক ও অবৈধ বলে রায় দিলেও বর্তমান সরকার রিট দাখিল করে সে রায় ঠেকিয়ে রেখেছে।

এখন সকল নিরাপত্তা ক্যাম্প প্রত্যাহার করে সীমান্তবর্তী এ কৌশলগত অঞ্চলটিকে ভারতের মদদপুষ্ট ও এজেন্ট সন্তু লারমার হাতে সোপর্দ করতে সরকার তৎপর হলেও বিরোধী দল পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমন; সেখানের অধিবাসীদের নাগরিক অধিকার এবং ভৌগোলিক নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে আওয়ামী সরকারের দেশবিরোধী পলিসির কোন কার্যকরী বিরোধীতা করছেনা।   

৫। ভারতের পণ্য আগ্রাসন এবং বানিজ্যিক বৈষম্য দূরীকরণঃ 

 মালবাহী ট্রাক, মটর কার, সিএনজি বেবিট্যাক্সি, মটর সাইকেল থেকে শুরু করে - মাছ, গরু, শাড়ী, থ্রি-পিস, প্যান্ট-শার্ট, প্রসাধনী, মশার কয়েল, টুথপেষ্ট অর্থাৎ বাজারে দৃশ্যমান প্রায় ৯০% পণ্যই ভারতীয়। আর দৃশ্যমান নয়- এমন পণ্য যেমন- ফেনসিডিল ও অন্যন্য মাদকদ্রব্যও আসে ভারত থেকে। বাংলাদেশ বছরে ভারতে রফতানী করে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আর ভারত বাংলাদেশে রফতানী করে প্রায় ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য; এছাড়া চোরাচালানীর মাধ্যমে পাচারকৃত পণ্যের মূল্যও প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার। এভাবে ভারত বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের বাজার দখল করলেও বাংলাদেশের পণ্য ভারতে রফতানীর ক্ষেত্রে শুল্ক ও অশুল্কীয় নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছে।   

ভারতের পণ্য আগ্রাসনের কারনে বাংলাদেশের শিল্প উতপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছেনা। বানিজ্যের এ বৈষম্য দূর করতে বাংলাদেশের উচিৎ- ভারত বাংলাদেশকে যত ডলারের বাংলাদেশী পণ্য ভারতে রফতানীর সুযোগ দেবে;  বাংলাদেশও ভারতকে ঠিক তত ডলারের ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে রফতানীর সুযোগ দেবে।  

ভারতীয় পণ্য আগ্রাসনের কারনে বাংলাদেশ যে একটি স্বয়ং সম্পূর্ন স্বাধীন দেশ-একথা বুঝার উপায় নেই। কিন্তু সরকার ও বিরোধী দলের কেহই ভারতীয় পণ্য আগ্রাসন থেকে বাংলাদেশের বাজারকে মুক্ত করতে এবং দেশীয় শিল্প-কারখানায় উৎপাদনে সক্ষম সামগ্রীগুলো নিজ দেশেই উৎপাদনের ব্যবস্থা নিয়ে শিল্পের প্রসার, কর্ম-সংস্থান ও আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে এ দেশকে গড়ে তোলার কোন বলিষ্ঠ উদ্যোগ গ্রহন করেননি।  

৬। ভারত কর্তৃক বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক নদীসমূহের পানি থেকে বঞ্চিত করনঃ

ভারত বাংলাদেশের উপর দিয়ে বহমান ৫৪টি নদীর মধ্যে ৫২টি নদীর উপর বাঁধ তৈরী করে অবৈধভাবে উজানে এসব আন্তর্জাতিক নদীর পানি নিস্কাশন করে নিয়ে যাচ্ছে। ভারত গংগা নদীর উপর ফারাক্কা বাঁধ তৈরী করে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে মরুভূমিতে পরিণত করেছে। বর্তমানে বরাক নদীর উপর টিপাইমুখ বাঁধ দিয়ে সিলেটের সুরমা-কুশিয়ারা এবং মেঘনা নদীকে শুকিয়ে মারার পদক্ষেপ নিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার ইতিপূর্বে ফারাক্কার পানি-বন্টন চুক্তি সই করলেও চুক্তি অনুযায়ী কোন বছরেই বাংলাদেশ পানির ন্যায্য হিস্যা পায়নি। টিপাইমুখ বাঁধ নির্মানের বিষয়ে সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রীর ভাষ্য হলো- এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার; আর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভীর ভাষ্য হলো- টিপাইমুখ বাঁধ তৈরী হলে বাংলাদেশ লাভবান হবে। তাই ভারত কর্তৃক ৫২টি নদীর বুকে বাঁধ দেয়ার বিরুদ্ধে সরকার নীরব।  

অন্যদিকে ভারত কর্তৃক বাংলাদেশের নদীগুলোকে শুকিয়ে মারা এবং ভারত কর্তৃক পানি আগ্রাসনের স্বপক্ষে আওয়ামী সরকারের সহযোগিতামূলক ভূমিকার বিরুদ্ধে বিরোধী দলের কোন কার্যকরী ভূমিকা নেই। এমনকি, ১৮টি খালসহ বাংলাদেশের তিতাস নদীর উপর বাঁধ দিয়ে ভারতীয় মালবাহী ট্রাক চলাচল করলেও বিরোধী দল এতদিনেও কোন কার্যকরী প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলেনি।

যৌথ নদীসমূহের পানি বন্টন বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশন থাকলেও সরকার বা বিরোধী দল কখনই জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক ফোরামে ভারত কর্তৃক একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার ও পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতির ন্যায্য দাবী উত্থাপনের উদ্যোগ নেয়নি।  

৭। ভারতের হিন্দী আগ্রাসন থেকে বাংলা সংস্কৃতিকে রক্ষা করাঃ

বাংলাদেশে কয়েক ডজন হিন্দী চ্যানেল বছরে হাজার কোটি ডলারের ব্যবসা করছে। বর্তমান সরকার বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে ভারতীয় ছবি প্রদর্শনের অনুমতি দিয়েছে- যার ফলে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্প মাঠে মারা যাবে। প্রতি বছর কয়েকশত ভারতীয় গায়ক, নৃত্যশিল্পী এবং অভিনেতা-অভিনেত্রী বাংলাদেশে এসে অনুষ্ঠান করে। ২০১১ সালে ঢাকায় বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ভারতীয় কালচারাল প্রোগ্রাম বললে অত্যুক্তি হবেনা। একই বছর ২৪শে মার্চে (পিলখানা হত্যাযজ্ঞের ২য় বার্ষিকীর আগের রাত) ঢাকায় আয়োজিত হলো ট্রাইনেশন কনশার্টের নামে মূলতঃ ভারতীয় শিল্পীদের নাচ-গানের বলিয়ডী অনুষ্ঠান। বাংলাদেশী টিভি চ্যানেলগুলো ভারতে প্রবেশাধিকার পাচ্ছেনা। পহেলা বৈশাখে বাংগালী সংস্কৃতির নামে যা পালন করা হয়- তার সাথে এদেশের ৯৯ শতাংশ মানুষের কোন সম্পর্ক আছে কি?  
ভারতের বাঙ্গালী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে এদেশে সরকারী খরচে যে মাতামাতি করা হয়- তা কোলকাতাতেও করা হয়না। সম্প্রতি শেখ হাসিনা ঘোষনা দিয়েছেন- রবীন্দ্রনাথের নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করবেন; কিন্তু প্রশ্ন হলো- তাতে কি একথা ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা সম্ভব হবে যে- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোলকাতার গড়ের মাঠে বিশাল মিটিং আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে কঠোর  আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন; এমনকি তিনি অত্যন্ত অমানবিক সতিদাহ প্রথা (হিন্দু বিধবা রমনী কর্তৃক জীবিতাবস্থায় নিজ স্বামীর চিতার আগুনে পুড়ে বাধ্যতামূলক সহমরন) সমর্থন করে কবিতা রচনা করেছিলেন  জ্বল জ্বল চিতা দ্বিগুন দ্বিগুন, পরাণ সপিবে বিধবা বালা ! এরুপ বিভৎস সহমরনের যন্ত্রণা ও দৃশ্য কি পাঠক কল্পনাও করতে পারেন ?

মুয়াজ্জিনের আজানের শব্দকে বেশ্যার খদ্যের ডাকার শব্দের সাথে তুলনা করতে পারেন-এমন ব্যক্তিরা (কবির চৌধুরী) যদি বাংলাদেশের জাতীয় কবি/অধ্যাপক হিসেবে আক্ষায়িত হন- তাহলে সে জাতির সংস্কৃতি কোলকাতার বাংলার মত ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে- এটাই স্বাভাবিক। অথচ আজ বাংলাদেশে কবি কাজী নজরুল ইসলাম, মাইকেল মধুসূধন দত্ত, জীবনানন্দ দাশ, জসীম উদ্দীন, কায়কোবাদ, ফররুখ আহমেদ, সৈয়দ আলী আহসান ইত্যাদি গুনী কবি-সাহিত্যিককে কতটুকু মর্যাদা দেয়া হয় ?   

মধ্যবিত্ত পরিবারের ঘরে ঘরে হিন্দী চ্যানেলের অনুপ্রবেশ- এখন একটি জাতীয় সমস্যা; কেননা এটি জাতীয় সংস্কৃতির প্রতি বিরাট হুমকিস্বরুপ। আমাদের অধিকাংশ বড় বড় কবি-সাহিত্যিকগন তরুণ-তরুণীদের জন্য যৌন সুরসুরিদায়ক বই, নাটক ও ফিকশন লিখেই মহা খ্যাতিমান; জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যু নিয়ে গভেষনা এবং জাতির সংস্কৃতি, ঐক্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ইত্যাদি বিষয়ে চেতনা বিকাশে তাদের অনেকেই উদাসীন। এমতাবস্থায়, আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং বিজাতীয় অপসংস্কৃতি রোধে সরকার ও বিরোধী দলের কার্যকরী পরিকল্পনা হাতে নেয়া জরুরী।   

৮। বিচার বিভাগকে দলীয় প্রভাব থেকে মুক্তকরণঃ

ক্ষমতাসীন দলের প্রতি আনুগত্যশীল বিচারক নিয়োগ, প্রধান বিচারপতিকে সরকারী ত্রাণভান্ডার থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ক্ষমতাসীন দলের নির্দেশিত রায় আদায়করন (যেমন - ৫ম সংশোধনী  ও তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলকরন) এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় ক্ষমতাসীন দলের প্রধান নেত্রীসহ অন্যান্নদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ৭১০০টি দূর্নীতি ও ক্রিমিনাল মামলা প্রত্যাহার করে নেয়া এবং বিরোধী দলীয় নেতৃবৃন্দকে নূতন নূতন মামলা দিয়ে হয়রানী করা- ইত্যাদির কারনে বর্তমানে বাংলাদেশে আইনের শাসন উপস্থিত নেই বলেই ওয়াকিবহাল মহল মনে করেন।  

বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ঠেকাতে যত্র-তত্র ১৪৪ ধারা জারী (২০১১ সালে ১৪৪ ধারা জারি করে ১০৩টি সভা-সমাবেশ বন্ধ করে দেয়াহয়েছে), গণ-হুলিয়া জারী, গণ-গ্রেফতার, ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে আন্দোলনকারীদেরকে কোনরুপ আত্মরক্ষার সুযোগ না দিয়ে তাৎক্ষনিক দন্ড প্রদান, সিটিং বিচারপতি কর্তৃক লন্ডনে দলীয় মিটিং ও টিভি টক-শোতে অংশগ্রহন এবং সর্বোপরি- নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি কর্তৃক ক্ষমতাসীন দলের প্রয়াত নেতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের ঘোষনা-ইত্যাদি বর্তমান বিচার ব্যবস্থাকে দলীয়করনেরই স্পষ্ট প্রমান বহন করে।

সরকার আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে নিজেদের পছন্দমত রায় আদায় করে নিচ্ছে, আদালত কর্তৃক তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করিয়ে দেশে গভীর রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। এমনকি, আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতাকে স্বাধীনতার ঘোষক ও জাতির পিতা হিসেবে ঘোষনা দেয়ার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তও আদালতের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে।   

আদালত জিয়া প্রবর্তিত বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনাকারী ৫ম সংশোধনী বাতিল করে কার্যতঃ ৪র্থ সংশোধনীর একদলীয় বাকশালী ব্যবস্থাকেই পূনপ্রতিষ্ঠিত করেছে। লক্ষ্যনীয় যে, আদালত ১/১১-এর ক্যু-কারী এবং জরুরী আইনের চাবুক চালিয়ে দীর্ঘ ২ বছর যাবত অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ভোগকারীদের বিরুদ্ধে এযাবত কোন ভূমিকা গ্রহন করেনি। এ্যাটর্ণী জেনারেল ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আচরন করে চলেছেন এবং আদালতের অনুমতি নিয়েই সরকার নির্দেশিত পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা অভিযুক্তদেরকে রিমান্ডে নিয়ে বর্বরোচিত নির্যাতন চালাচ্ছে; যে নির্যাতনের উদাহরন হলো- আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে রিমান্ডে নিয়ে গিয়ে বিবস্ত্র করে নির্যাতন আর বিরোধী দলীয় কেন্দ্রীয় নেতা সালাউদ্দিন চৌধুরীকে আংগুলের নখ তুলে ফেলে নির্যাতন। 

বিরোধী দল দলীয়কৃত আদালতের এহেন রায় ও কর্মকান্ডের প্রতিকার করাতো দূরের কথা; স্বয়ং বিরোধী দলীয় নেত্রীও সরকার প্রভাবিত আদালতের রায়ে নিজ বাড়ী থেকে উৎখাতের শিকার হয়েছেন। তাই, জাতীয় স্বার্থেই বিচার ব্যবস্থাকে দলীয়-মুক্ত করতে হবে।

৯। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পূণঃপ্রতিষ্ঠা করনঃ

বাংলাদেশে সরকার গঠন অর্থই - নিজ দলীয় নেতাকে মহিমান্বিতকরন, দলীয় আদর্শ পুরো জাতির উপর চাপিয়ে দেয়া, ইচ্ছে মত ইতিহাস বিকৃত করা, ক্ষমতা ও অর্থবিত্ত লাভের আলাদীনের চেরাগ হাতে পাওয়া এবং রিমান্ড, নির্যাতন ও হামলা-মামলা দিয়ে বিরোধী দল ও মতকে দমন করে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ীভাবে পাকাপোক্ত করার ব্যবস্থা করা। এসব কারনে কোন দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হবার বাস্তব পরিস্থিতি বাংলাদেশে বিদ্যমান নেই বলেই সংবিধানে ১৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছিল। কিন্তু এবার আওয়ামী লীগের আন্দোলনের ফসল ১/১১-র জরুরী আইনের সরকারের পরিচালিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার নিজ প্রভাবিত বিচারকের মাধ্যমে রায় আদায় করিয়ে এনে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়েছেন এবং দলীয় সরকারের অধীনেই পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত করে তাদের ভীশন-২০২১/২০২৫ বাস্তবায়নের ঘোষনা দিয়েছেন। সুতরাং, বুঝতেই পারছেন----!  

সরকারের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পরিকল্পনায় এখন আর রাখ্-ঢাক্ নেই। এমতাবস্থায় বিরোধী দল দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন বয়কট ও প্রতিহত করার ঘোষনা দিলেও বাস্তবে কতটুকু তার বাস্তবায়ন ঘটাতে সক্ষম হবে- সেটা ভবিষ্যতের ব্যপার। তবে, এ যাবৎ সরকার কর্তৃক কয়েক ডজন সিরিয়াস ইস্যু তৈরী করা হলেও বিরোধী দলের শুধুমাত্র পর্যবেক্ষকের ভূমিকা পালন- পুরো জাতিকে হতাশায় নিমজ্জিত করেছে।  

১০ জাতীয় নিরাপত্তায় আঘাতকারী পিলখানা হত্যাযজ্ঞের মূল ষড়যন্ত্রকারীদেরকে সনাক্তকরণঃ

 ২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারী ঢাকা সেনানিবাসের অদূরে অবস্থিত বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআর-এর সদর দপ্তর পিলখানায় সংঘটিত এক হত্যাকান্ডে ৫৭ জন বীর ও চৌকশ সেনা অফিসারকে সামরিক ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় হত্যা করা হয়। বিডিআর সদস্যদের বিদ্রোহ হিসেবে উক্ত ঘটনাকে রুপদান করা হলেও এটি ছিল একটি পূর্ব-পরিকল্পিত অপারেশন যার মিশন ছিল- সীমান্ত নিরাপত্তায় নিয়োজিত সেনা অফিসারদেরকে নির্মূল করে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ধবংস করা এবং মুক্তিযুদ্ধে গৌরবময় ভূমিকা পালনকারী বিডিআর বাহিনীটিকেই বিলুপ্ত করে দিয়ে আগ্রাসন প্রতিরোধে অক্ষম ভারত-প্রশিক্ষিত একটি অনুগত বাহিনী সীমান্তে মোতায়েন করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পিলখানায় ঘটনার পূর্বেই সাধারন সৈনিকদেরকে উত্তেজিত করার উদ্দেশ্যে লিফলেট ছড়ানো হয় এবং মিশন বাস্তবায়নকারী গ্রুপ ডিএডি তৌহিদের নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতার বাসায় গোপন পরিকল্পনা বৈঠকে অংশ নেয়।

বিডিআর-এর ডিজি জেনারেল শাকিলকে সকালে হত্যা করার পর হত্যাকারীরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে মিটিং করে সাধারন ক্ষমা লাভ করে পিলখানায় ফেরত গিয়েই মহা উল্লাসে অধিকাংশ অফিসারকে খুঁজে খুঁজে বের করে হত্যা করে। দূষ্কৃতিকারীদেরকে দমনের জন্য প্রদর্শন স্বরুপ ট্যাংক আনা হলেও রহস্যজনক কারনে ট্যাংক বহরকে পিলখানা কমপ্লেক্সে প্রবেশ করার অনুমোদন দেয়া হয়নি। পিলখানার বাইরে শত শত সেনা-র‍্যাব-পুলিশ সদস্য সশস্ত্র অবস্থায় হাজির থাকা সত্বেও হত্যাকারীরা ৫৭ জন অফিসারকে হত্যা করার পর মৃতদেহগুলি আগুনে পুড়িয়ে গণকবরে পুতে ফেলার, অস্ত্রাগার লূট করার, সদর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ সকল রেকর্ড ধ্বংস করার, অফিসারদের পারিবারিক বাসস্থানে হামলা করার এবং সবশেষে শত শত অস্ত্রসহ পিলখানা কমপ্লেক্স থেকে অবাধে সটকে পড়ার সুযোগ পায়; পিলখানার ভেতরের এত ঘটনার কোন খবর - দেশের শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইকেও সংগ্রহের সুযোগ দেয়া হয়নি।

তৎকালীন সেনাপ্রধান ও ১/১১-এর ক্যু পরিকল্পনাকারী জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ- এ ৫৭ জন অফিসার, তাদের পরিবার এবং একটি নিরাপত্তা বাহিনীর সদর দপ্তরকে রক্ষার উদ্দেশ্যে কোন কার্যকরী রেসকিউ অপারেশন পরিচালনা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হয়েছেন - তার কারন তিনিই ভালো জানেন।  

পিলখানা হত্যাযজ্ঞের পেছনে তথাকথিত মৌলবাদী জঙ্গীরা দায়ী বলে বানিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সাহারা খাতুন, যুবলীগ নেতা নানক- ইত্যাদি নেতারা পিলখানার গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে এবং মিডিয়ায় বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে দেশবাসী ও বিশ্ববাসীর দৃষ্টিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। সরকার কর্তৃক বিএনপি-কে দায়ী করার অপচেষ্টাও হয়েছে। বন্দী অবস্থায় প্রায় ৫০ জনেরও অধিক বিডিআর সদস্য রহস্যজনক কারনে মারা যায়; ফলে চাপা পড়ে যায়- ঘটনার অনেক মূল্যবান এভিডেন্স। সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত তদন্তে ডিএডি তৌহিদ গ্রুপের সাথে ঘটনার পূর্বে গোপন বৈঠককারী আওয়ামী লীগ নেতা মিঃ নানক, মির্জা আজম এবং ব্যারিষ্টার তাপসকে জিজ্ঞাসাবাদকরন প্রক্রিয়া থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। ডিএডি তৌহিদের সাথে এসব নেতার মোবাইল কথোপকথনের রেকর্ডও এখন লাপাত্তা বলে শোনা যায়।   

স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সেক্টর কমান্ডার, সাবেক সেনাপ্রধান এবং নিহত প্রেসিডেন্টের বিধবা পত্নী হিসেবে খালেদা জিয়াকে এরশাদ সরকার কর্তৃক মঈনুল রোডের বাড়িটি সরকারী বিধান অনুসারে লীজ দেয়া হয়েছিল; এখন খালেদা জিয়াকে উৎখাত করে বিডিআর-এর শহীদ পরিবারদেরকে বেগম জিয়ার বাড়ীর জাগায় পূনর্বাসিত করা হলে- তা হবে- সরকার কর্তৃক পিলখানার শহীদ পরিবারদেরকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থকরন।  

পিলখানা ষড়যন্ত্রের নেপথ্য নায়কদেরকে খুঁজে বের না করা পর্যন্ত সেনাবাহিনী - জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সক্ষম বাহিনী হিসেবে- জাতির আস্থা পূণঃপ্রতিষ্ঠিত হবেনা।

পিলখানা ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনাকারী, ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে সহায়তাকারী এবং ৫৭ জন সেনা অফিসারকে রক্ষায় যারা ব্যর্থ- তাদের সবাইকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা- এখন জাতীয় দাবী।

১১  সংবিধান থেকে আওয়ামীলীগ সরকার কর্তৃক বাতিলকৃত আল্লাহর উপর অগাধ আস্থা ও বিশ্বাষ পূণঃপ্রতিষ্ঠা করাঃ 

বাংলাদেশের মুসলিমহিন্দুখৃষ্টান, বৌদ্ধ সবাই ধর্মপরায়ন। এ সকল ধর্মগ্রন্থেই এক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টা মহান আল্লাহর কথাই বলা হয়েছে; যদিও বিভিন্ন ধর্ম বিশ্বাষীগন তাঁকে আল্লাহ, ঈশ্বর, ভগবান ইত্যাদি নামে ডেকে থাকেন।

বর্তমান বাংলাদেশ ১৯৪৭ সালে সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম জনসংখ্যা হওয়ার কারনেই পশ্চিমবংগ থেকে আলাদা হয়ে পাকিস্তান নামে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পেরেছিল; নতুবা এটি আজ পশ্চিমবংগের মত ভারত শাসিত একটি রাজ্য হিসেবেই পরাধীন থাকতো। তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং স্বাধীন বাংলাদেশী জাতি গঠনের মূলে- ধর্ম বিশ্বাষই মূল নির্ণায়ক।

ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান- ইত্যাদি সকল ধর্মের মূল যে মহান সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাষ- তা জাতীয় ঐক্য সাধনের জন্য দেশের সংবিধানে বহিঃপ্রকাশ হওয়াই বাঞ্চনীয়। স্বাধীন বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষের ধর্ম বিশ্বাষকে রাষ্ট্রের মূলনীতির মর্যাদা দেয়া- জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই একান্ত অপরিহার্য।

আমেরিকার ডলারে লিখা- ইন গড উই ট্রাষ্ট, যুক্তরাজ্যের পতাকাতে তিনটি ক্রস অংকিত, ভারতের পতাকাতে অশোকচক্র তথা ধর্মীয় প্রতীক বিদ্যমান। যুক্তরাজ্যে খৃষ্টান পার্টি এবং ভারতে হিন্দুত্ববাদী শিব সেনা, বজরং দল, রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস) ও বিজেপি বিদ্যমান; বাংলাদেশে হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ ও আওয়ামী উলামা লীগ থাকলে এখানে ধর্মকে আদর্শ হিসেবে গ্রহনকারী রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হওয়াটা- গনতান্ত্রিকতা হতে পারেনা। ভারতে খৃষ্টান পাদ্রীদেরকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা, দলিত হিন্দুদেরকে নিম্ন বর্ণের মানুষ বলে অস্পৃশ্য গণ্য করা, গুজরাটে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধিয়ে হাজার হাজার মুসলমানকে কুঁপিয়ে ও পুড়িয়ে মারা, মুসলমানদের কয়েকশত বছর পুরনো বাবরি মসজিদ হিন্দু উগ্রবাদীদের দ্বারা মহা উল্লাসে ডেমোলিস করা এবং আদালতের কাছ থেকে অন্যায্য রায় বের করা ইত্যাদি যদি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার উদাহরন হয়- তাহলে আমরা সে ধর্মনিরপেক্ষতা গ্রহন করতে পারিনা। কেননা, সাম্প্রদায়িক সুসম্পর্ক বজায় রাখার ব্যাপারে ইসলাম প্রদর্শিত নির্দেশনাই পৃথিবীতে অনুকরনযোগ্য আদর্শ।   

পাশ্চাত্যে খৃষ্টান ধর্ম যাজকদের চার্চ-ভিত্তিক প্রতাপ, বাইবেলের মনগড়া ধর্মীয় ব্যাক্ষা প্রদান, বাইবেলের বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদকরন নিয়ে পোপ পল-৪ এর নির্দেশে অনুদিত বাইবেলসহ সেইসব বাইবেলের সংরক্ষনকারী অসংখ্য মানুষকে পুড়িয়ে মারা- ইত্যাদি অতিরঞ্জিত বাড়াবাড়ির কারনে চার্চকে রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে দূরে রাখার উদ্যেশ্যেই সেক্যুলারিজম চালু হয়। সেই সেক্যুলারিজমের বংগানুবাদ ধর্মনিরপেক্ষতা দেয়া হলেও সেই ধর্মনিরপেক্ষতা বা সেক্যুলারিজম বাংলাদেশে অপ্রাসংগিক।

খৃষ্টান ধর্মের নিয়ন্ত্রনকারী ধর্মনিরপেক্ষতা আর ইসলাম নির্দেশিত সকল ধর্মের স্বাধীনতা ও অন্যান্য ধর্মবেত্তাগনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ -এক কথা নয়। যেমন  যীশু খৃষ্টকে স্রষ্টার বার্তাবাহী (রাসুল) হিসেবে স্বীকার না করলে কেহ মুসলিমই হতে পারেনা। মাদার মেরীকে নিয়ে খোদ বাইবেলেও কোন আলাদা অধ্যায় নেই; অথচ পবিত্র কোরানে সুরা মারিয়াম নামে একটি পৃথক অধ্যায় রাখা হয়েছে যেখানে তাঁকে সবচেয়ে পবিত্র মহিলা বলে ঘোষনা দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে, হিন্দু ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ উপনিষদে বলা আছে- একাম ইভাদ্বিতিয়াম ["Ekam evadvitiyam" "He is One only without a second." Chandogya Upanishad 6:2:1] এবং না তাসিয়া প্রাতিমা আস্তি ["Na tasya pratima asti" "There is no likeness of Him." Svetasvatara Upanishad 4:19] অর্থাত- ভগবান এক ও অদ্বিতীয় এবং ঈশ্বরের কোন প্রতিমা নেই। সুতরাং, বাংলাদেশের সকল ধর্মপ্রাণ মানুষের মৌলিক বিশ্বাষের ভিত্তি যে- এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহ/গড বা ঈশ্বর; সে এক ও অদ্বিতীয় সত্তার স্বীকৃতি আমাদের সংবিধানে স্থান পেলে তা সকলের মধ্যে বিশ্বাষগত ঐক্য সৃষ্টি করবে- যা জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য।

বর্তমান সরকার সংবিধান থেকে মহান আল্লাহর প্রতি অগাধ আস্থা ও বিশ্বাষ ঘোষনাটি তুলে দিয়ে বাংলাদেশের সকল ধর্মের মানুষের সার্বজনীন বিশ্বাষের মূলে আঘাত করেছেন। সংবিধান থেকে জাতির বিশ্বাষের ভিত্তি এ কথাটিকে তুলে দিয়ে সরকার পুরো জাতিকে নাস্তিক হিসেবে ঘোষনা দেয়ার ধৃষ্টতাপূর্ণ অনধিকার চর্চা করেছেন। তাই সংবিধানে জাতির এ সার্বজনীন বিশ্বাষকে পূণঃপ্রতিষ্ঠিত করা- প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য। 

একদিকে সংবিধান থেকে মহান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাষকে বাতিল করে দেয়া অন্যদিকে নির্বাচন আসলেই দলীয় নেতাগন কর্তৃক হজ্জ ও ওমরা পালন করে মিডিয়াতে প্রচার, মাথায় হিজাব বেঁধে মোনাজাতরত অবস্থায় ছবি তুলে লক্ষ লক্ষ পোষ্টার বানিয়ে সারা দেশে বিতরন- এসব আচরন মানুষের কাছে প্রতারণাপূর্ণ  বলে বিবেচিত হবার ঝুঁকিই বেশী নয় কি ?  

স্রষ্টার উপর বিশ্বাষ থাকা ব্যপারটি যেহেতু শুধুমাত্র মুসলমানদের একচেটিয়া অধিকার নয় বরং সকল ধর্মের মানুষের মৌলিক বিশ্বাষগত অধিকার- সেহেতু- এ বিশ্বাষকে আমাদের জাতীয় বিশ্বাষ হিসেবেই সংবিধানে পূনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে। ক্ষমতাসীন দলের নাস্তিক্যবাদী বিশ্বাষের বিপরীতে প্রধান বিরোধী দল বা জোটের ভূমিকার প্রতি দেশবাসীর দৃষ্টি থাকবে।

১২  উপসংহারঃ

আলোচ্চ নিবন্ধে গুরুত্বপূর্ন ১১টি জাতীয় ইস্যু সনাক্ত করার প্রয়াস পেয়েছি। নিবন্ধের কলেবর সীমিত রাখার স্বার্থে যে বিষয়গুলো এখানে আলোচনা করার সুযোগ হয়নি - তার কয়েকটি হলোঃ

ক। প্রতিরক্ষায় সক্ষম একটি কম্ব্যাট ইফিসিয়েন্ট সেনাবাহিনী গড়ে তোলা, একই সাথে একটি দক্ষ ইন্টেলিজেন্স ও কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সংস্থা গড়ে তোলা।
খ। শিক্ষাংগনে সন্ত্রাস দূরীকরন সহ গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরন।
গ। পুরো যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা এবং ব্যাপকভাবে জনশক্তি রফতানীকরন।
ঘ। শিল্পে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান।
ঙ। বহিঃশক্তির এজেন্ট হিসেবে ক্রিয়াশীল সকল সন্ত্রাসী গ্রুপ নির্মূলকরন এবং সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক সহিংসতা দমনকরন।
চ। স্থল ও সমূদ্র সীমা চিন্হিতকরন এবং জাতীয় খনিজ সম্পদ সংরক্ষন করন।
ছ। দূর্নীতি দমন কমিশনকে সরকারী প্রভাব-মুক্ত করন; শেয়ার বাজারের লুটেরা সহ দূর্নীতিবাজদেরকে চিন্হিতকরন এবং অর্থনৈতিক সেক্টরে ট্রান্সপারেন্সি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে জাতিকে দূর্নীতির শৃংখল-মুক্ত করন।
জ। বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ট্রান্সপারেন্সি বজায় এবং জাতীয় স্বার্থ (অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব) রক্ষার প্রক্রিয়া নির্ধারন।
ঝ। দূর্নীতিবাজ, ক্রিমিনাল এবং অদক্ষ ও টাউট প্রকৃতির লোকদের কবল থেকে জাতীয় রাজনীতিকে মুক্তকরন।
ঞ। ধর্ষন, এসিড নিক্ষেপ, যৌতুক দাবী, ইভটিজিং, নারী ও শিশু নির্যাতন- এর বিরুদ্ধে দূর্বার সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিতকরন।
ট। নিস্বঃ ও অসহায় মানুষের অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয় ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করন।
ঠ। ধর্ম, বর্ণ এবং দল-মত নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের বাক্-স্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করন।
 ড। সহযোগিতার জন্য কাঠামো চুক্তি নামক ভারতের সাথে স্বাক্ষরিত চিরস্থায়ী গোলামী চুক্তির জিঞ্জির থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করন।

আমাদের বিদগ্ধ বুদ্ধিজীবি, শিক্ষাবীদ, গভেষক, বিশেষজ্ঞ এবং দেশপ্রেমিক রাজনীতিকগন জাতীয় ইস্যুগুলো সনাক্তকরন এবং সেগুলো রক্ষায় জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টিতে এগিয়ে আসলেই- আমরা শক্তিশালী জাতি হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবো; সেই স্বর্ণালী দিনের প্রত্যাশায় - আসুন সকলে মিলে নন্দিত শিল্পী আব্দুল জব্বারের এই গানটি গাই-

আমাদের বন্দী করে যদি ওরা ভাবে-
দুনিয়ায় পাপের ভারে পূণ্য গেছে ডুবে,
ভুল ভুল ভুল কত বড় ভুল
আমাদের সন্তানেরা জেনো সে ভুল ভেঙ্গে দেবে।।

  তারিখঃ ১৬ জানুয়ারী, ২০১২

ইমেইলঃ farukbd5@yahoo.com

0 comments:

Extreme Tracker

eXTReMe Tracker

Followers

Google Analytics


Learn chess strategies!