Saturday, August 29, 2015

সচেতনের সন্দেহ সন্ত্রাসীর দিকে!



নাজমা মোসত্মফা 


সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে সব সময়ই শিষ্টের বদলে দুষ্টের কথাই মনে পড়ে সবার আগে৷ ঘটনার বিবরণে প্রকাশ মুজিব হত্যার পর তার মন্ত্রীসভার সব সদস্যরা পরবতর্ী মোশতাকের মন্ত্রী সভাতে যোগ দেন৷ সেদিন খোদ আওয়ামী লীগের মনত্মব্য ছিল, ফেরাউন ধ্বংস হলো৷ এটি বলার বহুবিধ কারণ বর্তমান ছিল৷ সেদিনের ট্যাংকবাজরা আজ টকবাজ হয়ে ঐ দলের প্রথম সারিতে অবস্থান করে সমানেই উত্‍কট ব্যাঙ্গোক্তি করে চলেছেন৷ ইউটিউবে দেখা যায় শেখ সেলিম ও ওবায়দুল কাদের নিজ দলের অপকর্মের ফিরিসত্মি স্বজ্ঞানে মেনে নিয়ে মনত্মব্য রাখছেন৷ এসব বছর কয় থেকে আমরা দেখে অভ্যসত্ম হয়ে আছি৷ "আওয়ামী স্ক্যান্ডাল" দিয়ে সার্চ দিলেই সব তর তর করে বেরিয়ে আসে৷ আওয়ামীরা অপকর্মে যে কতদুর হাত দাগাতে পারে, এর উদাহরণ শত শত চারপাশে ছড়ানো৷ সেদিন এক বোন বলছিল 'আজকাল বিয়ের প্রসঙ্গে ছেলেরা কেউ আওয়ামী লীগ হলে মানুষ ধরে নেয় এর বখাটে হবার সম্ভাবনাই অতিরিক্ত৷ বিবেচনা পাঠকের জমা খাতাতেই থাক৷ রাজনীতির যে রংবাজি খেলা চলছে সারা দেশ জুড়ে, দেশের মানুষ নীতি নৈতিকতা ভুলেই গেছে৷ এসব আর কোন অভিধানে জমা নেই৷ ধরো মারো খাও এটি হচ্ছে ৰমতাসীন দলের রাজনীতির ভাষা৷ বয়স্ক বিরোধী রাজনেতাদের কারাগারে নিয়ে রিমান্ড দিচ্ছে সরকার৷ কারণ কালো আইনের বদৌলতে নিজেরা সারা পাড়াময় মসত্মানী করলেও সারাৰণ বিরোধীরাই আসামী হচ্ছে আর গোটা জাতি জীবনযুদ্ধে বিপর্যসত্ম সময় কাটাচ্ছে৷ ৫৭ ধারার অপব্যবহারের প্রতিবাদে সম্পাদকেরা প্রতিবাদ করছেন৷ বর্তমান সময়ে মাহমুদুর রহমানের মত সজ্জনরা কারাগারে, কুজনরা সমানেই মাঠে ময়দানে মসত্মানী করে বেড়াচ্ছে৷ ধারাবাহিকভাবে বহুদিন থেকেই সরকার রাখঢাকা না রেখেই প্রকাশ্যে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে তার দলবাজদের হাতে৷ সংবাদের শিরোনাম ১২,০০০ অস্ত্রের লাইসেন্স, এক আসনেই ৩,০০০৷ এসব উন্নয়নের জোয়ার এর আলামত মাত্র৷ লীগযুক্ত সদস্য, স্বজন, ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকমর্ীরা অস্ত্র পাচ্ছে৷ বিগত ৬বছর আট মাসে ১২,০০০ আর এ যাত্রা ছলের নির্বাচনের পর মাত্র ৩,০০০৷ এ হচ্ছে দেশের অল্পপরিধি অস্ত্র আর সন্ত্রাসীদের হিসাব৷ এভাবে দেশকে মৃত্যু উপত্যকা বানানো হচ্ছে৷ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে কিছু বিধি নিষেধ ছিল যে, লাইসেন্সধারীদের টেঙ্ পরিশোধ করতে হবে৷ নতুন সংধোশনীতে স্পিকার, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিচারক থেকে শুরম্ন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত কোন ব্যক্তির ৰেত্রে আয়কর দিতে হবে না৷ কি অদ্ভুত সোয়ারীর পিঠে চলেছে এ দেশ! লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে রাজনীতির বিবেচনায় আর বেশিরভাগ পাচ্ছেন লীগের গডফাদাররা৷ একটি খবরে চোখ আটকে গেল৷ ২০৪১সাল পর্যসত্ম আওয়ামী লীগের ৰমতার জবরদখল চাই৷ "তোরা যে যা করিস ভাই আমার সোনার হরিণ চাই"৷ সারা দেশের সুস্থ মানুষ মেরে তক্তা বানাচ্ছে সরকার, ঢালছে পেট্রোল বোমা আর বলছে বিরোধীরে ধর৷ একটি "পেট্রোল বোমা ফাইলে" দেখলাম তথ্য প্রমাণসহ প্রায় ডজন উদাহরণ ছবিসহ বর্তমান, যেখানে সরকারের দাগীরা ধরা পড়েছে৷ তারপরও সরকার চিত্‍কার চেচামেচি করছে এসব বিরোধীর কাজ৷ ধারণা করি আজও বাংলাদেশের অনেকের ভেতর বিবেক নড়েচড়ে৷ এক মন্ত্রী বলছেন, বর্তমান ছলের প্রধানমন্ত্রীই হবেন আগামী নির্বাচনে সরকার প্রধান, বিএনপি মানুক না মানুক৷ গোটা জাতি আজ কপটের হাতে জিম্মী৷ ধুকে ধুকে মরছে আর বিড়ম্বিত স্বাধীনতার স্বাদ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে৷ পুলিশকে ফুলিশ বানিয়ে জাহান্নামের চেলা বানিয়ে কিনে রেখেছে সরকার৷ উঠ বললে উঠে, বস বললে বসে৷ স্বজ্জন ব্যক্তিদেরই দুর্দিন৷ জাতির দুর্দিনে সম্মুখ সমরে দাঁড়ানোর অপরাধে বহুবিধ মামলায় ৮০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ৷ ইতিহাস ও ধর্ম বলে এরকম অবস্থায় আলস্নাহর গজব নেমে আসে ধুলির ধরাতে৷ এত বাড় ভালো না, গোটা দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে৷ দৈবের কর্ম বড়ই শক্ত, ফেরাউন নমরম্নদ সাদ্দাদ যুগে যুগে উদাহরণ হয়ে আছে৷ নিজ হাতে গড়া বেহেশতের বসতি সাদ্দাদের ভাগ্যে জুটে নি৷ প্রতি বিরোধীনেতার পেছনে ডজন ডজন মামলা৷ বাহাদুররা হাততালি দিচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তো নারী না, দেশের একমাত্র পুরম্নষ৷ ১৬ কোটি জনতার দেশে একজন পুরম্নষ৷ শেখ সাদি বলেছিলেন, "আমি তারেই বেশি ভয় পাই, যে মোটেও আলস্নাহকে ভয় পায় না৷" 

 
১৫ ই আগষ্ট ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস আর বাংলাদেশে মুজিব হত্যা দিবস৷ সেদিন ভারত ২৭ আগষ্ট স্বীকৃতি দিলে চীন দেয় ৩১ আগষ্ট
, বৃটেন ১৮ আগষ্ট আর যুক্তরাষ্ট্র ২২ আগষ্ট ৷ এর কিছুদিন আগে ভারতের রাষ্ট্রদূতের সাথে মোশতাকের সাৰাত্‍ হয়৷ (মিযানুল করিম, নয়াদিগনত্ম, ২২ আগষ্ট ২০১৫)৷ এসব হচ্ছে রাজনীতির খেলা৷ মুজিব হত্যার পর কোন মানুষ গোটা দেশে রাও করেনি, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ছাড়া, মতিউর রহমান রেন্টুও ঐ প্রতিবাদে শরিক ছিলেন, তার লেখা থেকে জানি৷ ক্রসফায়ার সুবিধাবাদীরা মারছে, একজনকে মেরে অন্যকে বাঁচানোর প্রয়াস চলছে, মন্ত্রী মনত্মব্য করছেন সরকার একশনে নেমেছে৷ মানুষ মনত্মব্য করছে, চুনোপুঠি মেরে রাঘব বোয়ালকে বাঁচানোর কসরত চলছে৷ স্বজ্জনকে মারা আওয়ামীদের বহু পুরানো ক্রেডিট৷ ওতে হাত দাগিয়েছেন খোদ শেখ মুজিবও৷ যদিও তিনি নিজে মুক্তিযুদ্ধে ছিলেন না, কিন্তু নষ্ট দলবাজদের বাঁচাতে সম্ভবত তিনি এ কাজে হাত দাগিয়েছিলেন৷ জহির রায়হানকে কেন হত্যা করা হলো? এ বিতর্ক সেই স্বাধীনতার সময়কাল থেকেই নিরব যুদ্ধের মত কানে বাজে৷ জহির রায়হান ছিলেন জাতির এক মেধাবী সনত্মান৷ শহীদুলস্নাহ কায়সারের ভাই হলেও শহীদুলস্নাহ হত্যার বিচার চাই কিন্তু জহির রায়হান হত্যার বিচার চাইতে লজ্জা কেন? সাহসী এ সনত্মান সেদিন বলেছিলেন সাংবাদিক সম্মেলন করে শ্বেতপত্র প্রকাশ করবেন৷ তিনি আওয়ামীদের সব অপকর্ম তথ্য প্রমাণসহ জমা করেছেন, সব উন্মোচন করে দেবেন৷ পরিণতি হলো সাগর রম্নণির মতই৷ সেখানে জমা ছিল মুজিবনগর সরকারের সব গোপন তথ্য, তিনি হাটে হাড়ি ভেঙ্গে দেবেন৷ হাটে হাড়ি ভাঙ্গার জন্য ওটিই কি কম? শেখ মুজিবের হাড়ি সেদিন থেকেই ভেঙ্গেছে৷ এসব নিয়ে কথা হয় না, কার স্বার্থে এসব হয়? মুক্তিযুদ্ধ পরবতর্ী ঐ গুমের ইতিহাস ঐদিন থেকে শুরম্ন হয়েছে ৷ এসব তথ্যাবলি বাংলাদেশের পত্র পত্রিকাতে হালকাভাবে হলেও এসেছে৷ শেখ মুজিবও সেদিন জহির রায়হানের বড়বোন নাসিমা কবিরকে ডেকে নিয়ে হুমকি দেন যে, চিত্‍কার চেঁচামেচি করলে তাকেও গুম করে দেয়া হবে৷ তা জাতি জেনেছে জহির রায়হানের স্ত্রী সুমিতা দেবীর সাৰাত্‍কার থেকে (দৈনিক আজকের কাগজ, ৮ ডিসেম্বর ১৯৯৩ সাল)৷ ঐ দিন তিনি আরো বলেন যে রফিক নামের ব্যক্তি কল করে ডেকে নিয়েছিল জাহির রায়হানকে (তিনি আর ফিরে আসেন নি)৷ আসামী রফিককে পরবতর্ীতে বিদেশে নিরাপত্তার স্বার্থে পাঠিয়ে দেয়া হয়৷ ভারতে থাকা অবস্থাতে ঐ দলের চুরি দুনর্ীতি, অবৈধ ব্যবসা, যৌন কেলেংকারীসহ নানা অপকর্মের প্রামাণ্য দলিল তার কাছে ছিল৷ ওটিই তার জীবনের কাল হয়ে দাড়ায়৷ বিডিআর বিদ্রোহের মত এক ভ্থয়া তদনত্ম কাজ করেছে আওয়ামী লীগ জহির রায়হানকে নিয়ে৷ এটি ঘটে ১৯৭৫ সালে৷ "এর আগে জহির রায়হানসহ অনেক বুদ্ধিজীবিকে হত্যা করা হয়েছে৷ কই তাদের তো বিচার হলো না" (অনল রায়হান, জহির রায়হানের মেজো ছেলে, দৈনিক বাংলা, ৯ আগষ্ট ১৯৯৯ সাল)৷ ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারী বড় ভাই শহীদ সাংবাদিক শহীদুলস্নাহ কায়সারকে খুঁজতে গিয়ে মিরপুর থেকে তিনি ইলিয়াস আলী ও আরো অনেকের মতই গায়েব হয়ে যান৷  ষ্টুয়ার্ড মুজিব বলে আর একজন নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি যিনি ৯ নম্বর সেক্টরের অধীনে এবং পরে ৮ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন৷ স্বাধীনতার মাত্র সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই ঢাকার গুলিসত্মান চত্বর থেকে হাইজ্যাক হয়ে যান স্টুয়ার্ড মুজিব৷ এভাবে আর একটি উজ্জ্বল নৰত্র হারিয়ে যায় মুজিব সময়কালীন ৰমতাশীনদের কপট কারসাজিতে৷ ভারতে প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধাদের পাশে 'মুজিব বাহিনী' বলে আর একটি দল গঠন করতে হয়৷ ঐ মুজিব বাহিনী যুদ্ধে অংশ নেয়ার সুযোগই পায়নি, যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়৷ তখনকার অবস্থাপন্ন ছাত্রলীগেরাই এর সদস্য ছিল৷ এর ট্রেনিং চলে "র"এর মেজর জেনারেল উবানের নেতৃত্বে দেরাদুনে, যেখান থেকে এরশাদও পরবতর্ীতে হাত দাগান৷ এদের তৈরী করা হয় পরবতর্ীতে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদেরে খতম করার জন্য৷ এসব তথ্য জানা যায় মেজর অবসরপ্রাপ্ত এম এ জলিলের "অরৰিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা" গ্রন্থ থেকে, পৃষ্ঠা ৩৯-৪১৷ ১৯৭৪ সালে 'কালো আইন' করা হয় অভিযোগ ছাড়াই মানুষ আটক করার জন্য৷ বর্তমানে ঢাকাতে মামলা হয়েছে ৪ হাজার৷ খালেদা জিয়ার বিরম্নদ্ধে চলছে ১৩টির বিচার, তারেক রহমানের বিরম্নদ্ধে ৭৬টি, মির্জা ফকরম্নলের বিরদ্ধে ৭৮টি, রিজভী আহমেদের বিরম্নদ্ধে ৪৪টি, ভারতে অবস্থানরত সালাহ উদ্দিনের বিরম্নদ্ধে ২৭টি এভাবে হাজার হাজার মামলা চলছে, স্বাধীন দেশের মঙ্গলের পৰে কথা বলায় এরা অপরাধী৷ বিএনপির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, "সরকারের কৌশল হচ্ছে দ্রম্নত বিচার শেষ করে খালেদা জিয়াকে জনসমৰে হেয় প্রতিপন্ন করে সাজা প্রদান করা"৷ 



 


আগষ্ট হচ্ছে চিকন মাথার সন্ত্রাসীদের অংকের মাস৷ একযোগে ৬৩ জেলাতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে, সময়টি খেয়াল করবেন বিগত জোট সরকারের সময়ে, ২০০৫ সালের ১৭ই আগষ্ট! এর ঠিক এক বছর আগে ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে তখনকার বিরোধী নেত্রী শেখ হাসিনার সভাতে গ্রেনেড হামলা হয়, বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে! পাঠক লৰ্য করবেন ঐদিন সন্ত্রাসবিরোধী সভা চলছিল৷ খোলা ট্রাকে নিজেদের বানানো উন্মুক্ত মঞ্চে ভাষণ দিচ্ছেন শেখ হাসিনা৷ বক্তৃতা শেষ, মাত্র শোভা যাত্রার উদ্বোধনী ঘোষনা করবেন৷ ঠিক ঐ মূহূর্তেই গ্রেনেড হামলে পড়ে (হাসিনা হত্যার উদ্দেশ্যে), তার আগেও নয়, পরেও নয়৷ হতভাগী আইভি রহমান সেদিন গুলতির সামনে পড়েন যদিও তিনি হত্যার উদ্দেশ্য ছিলেন না, তিনিসহ ২৪ জন নিহত হন, আহত ৫০০৷ মোটা দাগে চিহ্নিত করার মত আইভি রহমান নিহত হলেন, সেদিনের আইভি হলেন দৈবের পরিহাস মাত্র৷ বুলেট প্রম্নফ গাড়ীতে শেখ হাসিনা বিকেল পাঁচটার সময় সমাবেশে পৌছান৷ স্মরণ করার বিষয় ঐ বক্তৃতায় অতিসাবধানী হাসিনা আওয়ামী লীগ নেতাকমর্ীদের উপর হামলা ও দেশব্যাপী বোমা হামলা বন্ধে সরকারকে হুশিয়ার করেন৷ ঘটানোর আগ থেকেই হুশিয়ারী সংকেত রেডি ছিল! স্বাধীনতার পর থেকে সন্ত্রাসীতে কারা এগিয়ে ছিল জাতির কি এখনো জানা বাকি? বিশ্ববিদ্যালয় ডাকাতের গ্রাম নামে পরিচিতি অর্জন করে৷ পাঠক ঘটনাটি মেলাবেন পিস্নজ, ঠিক পেট্রোল বোমা ছুড়ে বিরোধীর উপর দোষ ছুড়ে দেয়ার মতনই৷ ২০ মিনিটের বক্তৃতা, সব অংক করে কষা৷ ধোয়ায় চারদিক আচ্ছন্ন৷ গাড়ি লৰ্য করে গুলি ছোড়া হয়৷ কোন বেকুব ছাড়া কোন বুদ্ধিমান কখনোই বুলেট প্রম্নফ গাড়িতে এটি করে হাত দাগাতে যাবে বলে মনে হয়না৷ সারা মঞ্চ জুড়ে শত শত সন্ত্রাসী ময়দানে৷ বিরোধী বুদ্ধিমতি হাসিনা সরল অংকটি কষে দেখিয়েছেন৷ ১৫ আগষ্ট যে সাজিয়েছে সেই ২১ ও ১৭ তারিখ সিলেক্ট করেছে৷ সচেতন বিবেককে প্রশ্ন করম্নন৷ আলামতে কি মনে হয়? শত শত মানুষের আর্ত চিত্‍কার, ছিন্ন দেহ, রক্ত, বারম্নদের গোড়া গন্ধ! সরকারের বর্তমান গোলাম মিডিয়া বলবে সবই দিনের আলোর মতই পরিষ্কার৷ আর সচেতনরা দেখেন গভীর রাতের মতই ঘোর অন্ধকার! ঐ সময়কার সরকার বিদেশের সাহায্যও নিয়েছিল সন্ত্রাস উন্মোচনে৷ মিডিয়াতে এটিও এসেছিল, কথা ছিল ময়দানে মঞ্চসভা হবে৷ কিন্তু অতঃপর সেটি হয় ট্রাকের উপর৷ প্রধান আসেন বুলেট প্রম্নফ গাড়ীতে কারণ বিডিআর বিদ্রোহের খবরও প্রধানের জানা ছিল, তাই তিনি সেদিন আগে ভাগেই সটকে পড়েন৷ সেদিনের বোমাও সরাসরি প্রধানের উপর পড়ার কথা নয়৷ তবে আইভির কপালের ফের, তিনি তো আর প্রধান নন! বর্তমান সরকার নাকি এর বিচার করছে৷ বিডিআর বিদ্রোহের বিচারও সরকার করেছে! আগুণও দিয়েছে, পানিও ঢেলেছে, দু কাজেই দৰ এ সরকার৷ সে সময় বিদেশীরা আসলে চাইছিল প্রধাণের গাড়ীটি চেক করতে, কিন্তু ওটি করতে দেয়া হয়নি, গাড়ী চেক করতে না দেয়ার কারণটি কি ছিল? জাতির মনে কি কোনই প্রশ্ন জাগেনি? কিবরিয়া হত্যার কোন কুল কিনারা হয় না৷ কেন? ঐ সময় এটিও পত্রিকার পাতাতে এসেছিল যে ঐদিন কোন কারণে কিবরিয়া ঘটনাস্থলে যেতে চান নি, কিন্তু সরকার প্রধান খুব কৌশলে তাকে ঠেলে পাঠায়৷ সেক্রেটারিয়েটের দিগম্বর কাহিনী কি একদমই ভুলে গেছেন, পাঠকেরা! চারপাশে অজস্র উদাহরণ পড়ে আছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে৷ চোরাই গাড়ীসহ সংসদ সদস্যের পুত্র আটক হলেও ছাড়া পেয়ে যান৷ পুত্রকে ছেড়ে তার বন্ধু রাসেলকে পুলিশ গ্রেফতার করে (১৩-১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, সাপ্তাহিক সুরমা)৷






সন্ত্রাস বিরোধী সভাতে ময়দানের সন্ত্রাসী নায়কদের উপস্থিত না থাকার যুক্তি দেখছি না৷ এটি শুধু ঐ সময় থেকেই নয়, তার বহু আগ থেকেই তারা সন্ত্রাসের শিরোমনি৷ অতি চালাকের গলায় দড়ি বলে একটি কথা আছে! হিন্দুদের মন্দিরে হামলা করে সমানেই বিরোধীর উপর ও জামাতিদের উপর দাগিয়ে দেয়ার খেলা তো গোটা বিশ্বই দেখলো৷ এবার হিন্দু সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে হাসিনার বেয়াইএর বিরম্নদ্ধে, কমিটি গঠন করা হয়েছে তাকে বাঁচানোর জন্য৷ উলেস্নখ্য তিনি এক নামে চিহ্নিত রাজাকার৷ ২২/০৮/২০১৫ তারিখে কলকাতার আনন্দবাজারে লোকদেখানো কমিটি গঠনের খবরটি প্রকাশিত হয়েছে৷ নিজেদের লোক দিয়ে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ সারাদেশেই চলছে বিরোধী নিধনের এ খেলা৷ দেশেও এ সম্পত্তি দখলের প্রতিবাদী ঝড় বইছে৷ রাজাকার বেয়াই হলে মন্ত্রী হওয়া যায়৷ জঙ্গি গীত দিয়ে বিডিআর বিদ্রোহের মোড় ঘুরাতে চেয়েছে সরকার বারে বারে৷ দেশবাসীকে এসব মনে রাখতে হবে মির্জা আজম ছিলেন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক৷ তিনি মনের খেদ মেটাতে পিলখানাতে কর্নেল গুলজারের চোখ উপড়ে ফেলতে ও দেহ নষ্ট করতে নির্দেশ দেন৷ এসবের ভিডিও রেকর্ডও প্রমাণ৷ এর প্রধান কারণ, গুলজারের কারণেই মির্জা আজমের দুলাভাই জেএমবি প্রধান শায়খ আব্দুর রহমানকে ধরা হয় ও পরে ফাঁসি দেয় তত্‍কালীন খালেদা সরকার৷ বিদ্রোহের দিন ঐ আজমের নির্দেশেই গুলজারের লাশ জ্বালিয়ে নষ্ট করা হয়৷ ভুলে যাবেন না ২০০৪ সালে নানক ও আজমের নেতৃত্বে শেরাটন হোটেলের সামনে গান পাউডার দিয়ে দোতলা বাসে আগুন লাগিয়ে ১১ যাত্রীকে পুড়িয়ে মারার ঘটনাতে গুলজারই এদের সনাক্ত করতে সমর্থ হন৷ খবরে প্রকাশ ২০০৯ সালে বিদ্রোহের দিন নানক ও তৌহিদের মাঝে ২০৪ মিনিট কথা হয়৷ ২৫ তারিখ বিকালে শেখ হাসিনার সাথে মিটিং করে তৌহিদ অপরাধীকে নিরাপদে ফেরত যাবার ব্যবস্থা করেন৷ সাহারা খাতুনের নেতৃত্বে রাতের অাঁধারে প্রধানমন্ত্রীর মেডিকেল টিমের অ্যাম্বুলেন্স ও রেড ক্রিসেন্টর অ্যাম্বুলেন্স বাতি নিভিয়ে ঘাতকদের সরিয়ে নেয়৷ শেখ হাসিনার ভাতিজা শেখ মনির ছেলে ব্যারিস্টার তাপস ৩ কিলোমিটার রেডিয়াসের বসতি খালি করে কিলারদের পালিয়ে যাবার ব্যবস্থা করেন৷ প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গির কবির নানক এবং হুইপ মির্জা আজম শ্বেত পতাকা নিয়ে পিলখানা গেটে ঢোকাতে প্রশ্নের জমা কমে নাই বরং বেড়েছে৷ ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বিরোধী নেত্রী হাসিনা ট্রেনে ভোটের প্রচারে৷ রাতে সাংবাদিকেরা ঝিমিয়ে পড়লে, নেত্রী নির্দেশ দেন কয় রাউন্ড গুলি ছুড়তে৷ ট্রেন ঈশ্বরদিতে ঢোকার ঠিক আগে গুলি ছোড়া হয়৷ সঙ্গে সঙ্গে বলা হয় সাংবাদিকদের মাঝে খবর ছড়িয়ে দাও আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল৷ নেতা আমীর হোসেন আমু মাইক নিয়ে মিথ্যা খবর ছড়িয়ে দিলেন আকাশে বাতাসে৷ এর সূত্র ধরে পরদিন হরতাল ডাকা হয়৷ প্রয়োজনে এরা নিজ দলের কমর্ীও হত্যা করে দেলোয়ার ও জাফর, জয়নাল সেলিম এরা তার জ্বলজ্যানত্ম উদাহরণ৷ সম্প্রতি পড়লাম তাকে নাকি১৯বার হত্যার চেষ্টা করা হয়৷ কি কারণে তাকে ১৯বার হত্যার চেষ্টা আর ধূর্ত এরশাদকে মানুষ একবারও মারতে যায় না৷ কারণটি কি? বাংলাদেশের মানুষের স্বভাব কি বদল গিয়া? 
 
সাঈদীর মামলা সাজাতে সুখরঞ্জন বালী নাটক, উষা রাণী, উত্তম মালাকার, মধুসূদন ও হরেণ ঠাকুর, সতিশ বালা চিত্তরঞ্জন তালুকদার, মুখেন ঠাকুরের প্রসঙ্গ আমরা ইউটিউবে দেখি৷ বালী বলেন, তাকে নানাভাবে শাসকপৰ চাপের মাঝে রেখেছে৷ ভারতে বন্দীত্ব, সালাহউদ্দিন নাটক, রেশমা নাটক, ইয়াসমিন নাটক কত আর বলা যায়? মহাভারত লিখা যাবে এদের বিরম্নদ্ধে৷ তাই এরা এমনই সন্ত্রাসী যে এসব বলতেও রম্নচিতে বাধে, এরা জন্মসন্ত্রাসী৷ নিজের দলের লোক মেরে রাজনীতির স্বাৰর রাখে, গিস্নসারিনের অভিনয় করার মত নেতা এরা৷ হাসিনা সরকারের প্রাইভেট সেক্রেটারী থরে বিথরে লিখে এসব কষ্টের কথা প্রকাশ করেছেন, যা গোটা জাতিই আজ জানে৷ এসব অপকর্ম গোটা জাতীয় জীবনের কলঙ্ক হয়ে বিবেকের কামড় হয়ে আছে৷ আজো সন্ত্রাসের দংশণে গোটা জাতি কুকড়ে মরছে৷ যদিও এত এত যুক্তির পরই লেজকাটা কিছু শিয়ালসহ প্রধানমন্ত্রী বলতেই পারেন যে, গ্রেনেড হামলায় খালেদার জড়িত থাকা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই৷ 

২৪ আগষ্ট ২০১৫ সাল৷ 

Tuesday, June 16, 2015

A Partnership with China to Avoid World War





George Soros

NYRB - July 9, 2015      
    
International cooperation is in decline both in the political and financial spheres. The UN has failed to address any of the major conflicts since the end of the cold war; the 2009 Copenhagen Climate Change Conference left a sour aftertaste; the World Trade Organization hasn’t concluded a major trade round since 1994. The International Monetary Fund’s legitimacy is increasingly questioned because of its outdated governance, and the G20, which emerged during the financial crisis of 2008 as a potentially powerful instrument of international cooperation, seems to have lost its way. In all areas, national, sectarian, business, and other special interests take precedence over the common interest. This trend has now reached a point where instead of a global order we have to speak of global disorder.

In the political sphere local conflicts fester and multiply. Taken individually these conflicts could possibly be solved but they tend to be interconnected and the losers in one conflict tend to become the spoilers in others. For instance, the Syrian crisis deteriorated when Putin’s Russia and the Iranian government came to Bashar al-Assad’s rescue, each for its own reasons. Saudi Arabia provided the seed money for ISIS and Iran instigated the Houthi rebellion in Yemen to retaliate against Saudi Arabia. Bibi Netanyahu tried to turn the US Congress against the nuclear treaty the US was negotiating with Iran. There are just too many conflicts for international public opinion to exert a positive influence.

In the financial sphere the Bretton Woods institutions—the IMF and the World Bank—have lost their monopoly position. Under Chinese leadership, a parallel set of institutions is emerging. Will they be in conflict or will they find a way to cooperate? Since the financial and the political spheres are also interconnected, the future course of history will greatly depend on how China tackles its economic transition from investment and export-led growth to greater dependence on domestic demand, and how the US reacts to it. A strategic partnership between the US and China could prevent the evolution of two power blocks that may be drawn into military conflict.

How did we reach this point of global disorder? During the cold war the world was dominated by two superpowers. Each maintained some degree of control over its allies and satellites, and avoided direct military confrontation with the other because of the danger of Mutually Assured Destruction. It was a MAD system but it worked: it produced a number of local military conflicts but it avoided a world war.

When the Soviet empire fell apart the United States had an opportunity to become the sole superpower and the guarantor of peace in the world, but it did not rise to the occasion. The US was founded on the principle of individual freedom and it was not predisposed to become the policeman of the world. Indeed, it did not have a coherent view of the meaning of leadership in international affairs. During the cold war it had a bipartisan foreign policy, on which Democrats and Republicans largely agreed; but after the cold war ended the partnership broke up. Both parties continued to emphasize American sovereignty but they rarely agreed on subordinating it to international obligations.

Then in 1997, a group of neoconservatives argued that the US should use its military supremacy to impose its national interests, and established a think tank called the Project for the New American Century, “to promote American global leadership.” But that was a false approach: military force cannot be used to rule the world. After the terrorist attack of September 11, the neocons persuaded President George W. Bush to attack Iraq on dubious grounds that turned out to be false, and the US lost its supremacy. The Project for the New American Century had approximately the same lifespan as Hitler’s Thousand-Year Reich: around ten years.

On the financial side, by contrast, there was a clear consensus—the so-called Washington Consensus—on America’s role in the world. It became dominant in the 1980s under the leadership of Ronald Reagan and Margaret Thatcher. It had strong ideological support from market fundamentalists; it had a supposedly scientific foundation in the Efficient Market Hypothesis and Rational Choice Theory; and it was efficiently administered by the International Monetary Fund (IMF). The consensus was a much more subtle compromise between international governance and national self-interest than the neocons’ view that military power is supreme.

Indeed, the Washington Consensus had its roots in the original compromise on which the Bretton Woods institutions were founded. John Maynard Keynes proposed a truly international currency, the bancor, but the US insisted on the dollar as the world’s reserve currency and it prevailed. In the memorable words of George Orwell’s Animal Farm, “all animals are equal, but some animals are more equal than others.” The Washington Consensus promoted free trade and the globalization of financial markets. In the late 1990s, market fundamentalists even tried to modify the articles of agreement of the IMF so as to impose capital account convertibility, the free exchange of currencies. That attempt failed, but by allowing financial capital to move around freely the Washington Consensus also allowed capital to escape taxation and regulation. That was a triumph for market fundamentalism.

Unfortunately, the scientific foundations of this approach proved to be ill conceived. Unregulated financial markets are inherently unstable: instead of a general equilibrium that assures the optimum allocation of resources, they produce financial crises. This was dramatically demonstrated by the crash of 2008. By coincidence, 2008 marked both the end of America’s political supremacy and the demise of the Washington Consensus. It was also the beginning of a process of financial and political disintegration that first manifested itself in the microcosm of the European Union, but then spread to the world at large.

The crash of 2008 had a lasting negative effect on all the economies of the world, with the notable exception of China’s. The Chinese banking system was relatively isolated from the rest of the world and largely government-owned. As a consequence, the Chinese banks could, at the government’s behest, offset the collapse of external demand by flooding the economy with credit. The Chinese economy replaced the American consumer as the motor of the global economy, largely by selling to the American consumer on credit. It has been a rather weak motor, reflecting the relative size of the Chinese and American economies, so that the global economy has grown rather slowly since the emergence of China’s international economic power.

The main reason why the world avoided a global depression is that economists have learned some lessons from the experience of the 1930s. The heavy load of debt and lingering political prejudices limited the scale of fiscal stimulus globally (again with the exception of China); but the Federal Reserve under the leadership of its chairman, Ben Bernanke, embarked on unorthodox monetary policies including quantitative easing—large-scale injection of money into the economy through the purchase of bonds by the Federal Reserve. This prevented the reduction in effective demand from deteriorating into a global depression.

The crash of 2008 was also indirectly responsible for the euro crisis. The euro was an incomplete currency: it had a common central bank but it did not have a common treasury. The architects of the euro were aware of this defect but believed that when the deficiency became apparent the political will could be summoned to correct it. After all, that is how the European Union was brought into existence—taking one step at a time, knowing full well that it was insufficient but that when the need arose it would lead to further steps.

Unfortunately, political conditions changed between 1999, when the euro was adopted, and 2008, when the need arose. Germany under the leadership of Helmut Kohl led the process of European integration in order to facilitate the reunification of Germany. But reunification proved expensive and the German public became unwilling to take on any additional expenses. When, after the bankruptcy of Lehman Brothers in 2008, the European finance ministers declared that no systemically important financial institution would be allowed to fail, Chancellor Angela Merkel, as a politician in touch with the prevailing public opinion, insisted that the responsibility should fall on each country separately, not on the European Union collectively. That ruled out the possibility of a common treasury just when it was needed. That was the beginning of the euro crisis. Crises in individual countries like Greece, Italy, or Ireland are essentially variants of the euro crisis.

Subsequently, the financial crisis has morphed into a series of political crises. The differences between creditor countries and debtor countries have transformed the European Union from a voluntary association of equals into a relationship between creditors, such as Germany, and debtors, such as Greece, that is neither voluntary nor equal and arouses increasing political tensions.

The European Union started out as a valiant attempt at international governance on a regional scale. In the aftermath of 2008, the EU became preoccupied with its internal problems and failed to pull its weight in the international economy. The United States also became inward-looking but by a somewhat different route. The inward turn of the EU and US led to a decline in international cooperation on a global scale.

Since the Western powers are the mainstay of the prevailing world order, their declining influence has created a power vacuum in international governance. Aspiring regional powers and nonstate actors, which are willing to use military force, have rushed to fill the vacuum. Armed conflicts have proliferated and spread from the Middle East to other parts of Asia, Africa, and even Europe.

By annexing Crimea and establishing separatist enclaves in Ukraine, Putin’s Russia has challenged both the prevailing world order, which depends on the Western powers for support, and the values and principles on which the EU was founded. Neither the European nor the American public is fully aware of the severity of the challenge. President Vladimir Putin wants to destabilize all of Ukraine by precipitating a financial and political collapse for which he can disclaim responsibility, while avoiding occupation of a part of eastern Ukraine, which would then depend on Russia for economic support. He has demonstrated his preference by twice converting an assured military victory into a cease-fire that threatened to destabilize all of Ukraine. Unfortunately, Putin is succeeding, as can be seen by comparing the “Minsk Two” cease-fire with “Minsk One,” even if his success is purely temporary. Putin now seeks to use Ukraine to sow dissension and gain political influence within the European Union.

The severity of the Russian threat is directly correlated with the weakness of the European Union. The EU has excelled at muddling through financial and political crises but now it is confronted with not one but five crises: Russia, Ukraine, Greece, immigration, and the coming British referendum on EU membership—and that may be too much. The very survival of the EU is at risk.

International governance on a global scale is equally fragile. The world may break up into rival camps both financially and politically. China has begun to build a parallel set of financial institutions, including the Asian Infrastructure Investment Bank (AIIB); the Asian Bond Fund Initiative; the New Development Bank (formerly the BRICS Bank); and the Chiang Mai Initiative, which is an Asian regional multilateral arrangement to swap currencies. Whether the two camps will be able to keep their rivalry within bounds will depend on how China manages its economic transition and on how the US reacts to it.

The International Monetary Fund could play a positive part in this. It has abandoned its commitment to the Washington Consensus but the controlling shareholders of the Bretton Woods institutions—the US, the UK, France, and Germany among them—are unwilling to relinquish their voting control by increasing the representation of the developing world. This is very shortsighted on their part because it does not recognize changes in the relative weight of various economies and particularly the rise of China.

The controlling shareholders are unlikely to abandon their control, however tenuous; but the IMF has an opportunity to build a binding connection between the two camps. The opportunity arises from the fact that the composition of the IMF’s Special Drawing Rights (SDR) basket will be up for its five-yearly review at the end of 2015.

The SDR is an international reserve asset, created by the IMF in 1969 to supplement the existing official reserves of member countries. The Chinese renminbi is not fully qualified to be included in the SDR basket, but the qualifications to be included are not as rigorously defined as is generally believed. The Japanese yen was introduced when it was not yet widely traded; the franc entered the basket when the French capital account was heavily controlled; and the Saudi riyal was introduced when it was completely pegged to the US currency. The criteria for inclusion have changed over the years but now call for (1) a large exporter country and (2) a “freely usable” currency. This term is often misconstrued as imposing complete convertibility of capital accounts and flexibility of exchange rates; but that is not the case. Indeed, the basket of Special Drawing Rights formerly included currencies with no or little capital account convertibility.

The Chinese leadership has now embarked on a major effort to have the renminbi included in the SDR basket, and the IMF staff is sympathetic. For instance, it has announced that the renminbi is “no longer undervalued,” and it doesn’t seek full and precipitous capital account liberalization, but rather a cautious and gradual pace of reform in order to ensure the smooth functioning of the SDR and the preservation of financial stability in China.

Much now depends on the attitude of the US government, which holds veto rights in the IMF—even if the decision regarding the SDR basket requires only a 70 percent majority of the IMF’s board. The US would be making a major concession if it opened the door to allowing the renminbi to become a potential rival to the dollar. It could demand similar concessions from China in return, but that would be the wrong approach. The relationship between two great powers is not a zero-sum game: one party’s gain is not necessarily a loss for the other.

China is seeking SDR status for the renminbi not to please or hurt the US but for reasons of its own that are only indirectly connected with China’s ultimate ambition of replacing the US dollar as the dominant currency in the world. China seeks to use financial liberalization as an engine of growth for the Chinese economy. China wants to deepen the government bond market and open it up to international investors in order to enable the central government to clean up the bad debts of insolvent local authorities; it also wants to reduce the excessive leverage in the economy by promoting conversions of debt to equity. Inclusion of the renminbi in the IMF basket would facilitate the process, and success would automatically advance the renminbi’s weight and influence in the world.

The US government has little to gain and much to lose by treating the relationship with China as a zero-sum game. In other words it has little bargaining power. It could, of course, obstruct China’s progress, but that would be very dangerous. President Xi Jinping has taken personal responsibility for the economy and national security. If his market-oriented reforms fail, he may foster some external conflicts to keep the country united and maintain himself in power. This could lead China to align itself with Russia not only financially but also politically and militarily. In that case, should the external conflict escalate into a military confrontation with an ally of the United States such as Japan, it is not an exaggeration to say that we would be on the threshold of a third world war.

Indeed, military budgets are rapidly increasing both in Russia and in China, and they remain at a very high level in the United States. For China, rearmament would be a surefire way to boost domestic demand. China is already flexing its military muscle in the South China Sea, operating in a unilateral and often quite belligerent manner, which is causing justifiable concern in Washington. Nevertheless, it may take a decade or more until a Russian–Chinese military alliance would be ready to confront the US directly. Until then, we may expect a continuation of hybrid warfare and the proliferation of proxy wars.

Both the US and China have a vital interest in reaching an understanding because the alternative is so unpalatable. The benefits of an eventual agreement between China and the US could be equally far-reaching. Recently there has been a real breakthrough on climate policy on a bilateral basis. By taking the nonbinding representations and promises made by the two countries at face value, the agreement has made more credible some recent efforts to bring climate change under control. If this approach could be extended to other aspects of energy policy and to the financial and economic spheres, the threat of a military alignment between China and Russia would be removed and the prospect of a global conflict would be greatly diminished. That is worth trying.

On his last state visit to the US in 2013, President Xi spoke of a “new type of great power relationship.” The subject has been widely discussed in China since then. President Obama should outline his own vision by drawing a distinction between Putin’s Russia, which has replaced the rule of law with the rule of force, and today’s China, which does not always abide by the rule of law but respects its treaty obligations. Russian aggression needs to be firmly resisted; by contrast China needs to be encouraged—by offering a more constructive alternative—to avoid the route of military aggression. This kind of offer may elicit a favorable response. Rivalry between the US and China is inevitable but it needs to be kept within bounds that would preclude the use of military force.

It does not follow that a far-reaching agreement amounting to a strategic partnership between the US and China would be easy to accomplish. The two countries have fundamentally different political systems. While the US is founded on the principle of individual freedom, China has no significant tradition of such freedom. It has had a hierarchical structure since time immemorial and it has been an empire throughout most of its history. In recent years the US has led the world in the innovative development of social media, while China has led the world in finding means to control it. Since the end of the cold war, China has been much more successful than Russia in creating a successful hierarchical system.

This is best seen by looking at the way information is distributed. Since the rise of social media, information increasingly travels along horizontal lines, but China is different: information is distributed vertically. Within the party–state apparatus, the closer one is to the top, the better one is informed and the more latitude one enjoys in expressing an opinion. This means that the party–state apparatus offers not only an opportunity for personal enrichment but also a semblance of individual freedom. No wonder that the apparatus has been able to attract much of China’s best talent. The degree of latitude it allows is, however, strictly circumscribed by red lines. People have to walk within a grid; those who transgress the red lines may fall into the hands of the security apparatus and disappear without a trace.

The stranglehold of the security apparatus was gradually diminishing but recently there has been an ominous reversal: under the leadership of President Xi the informal rules defining the rights and status of NGOs, for instance, are now in the process of being significantly tightened.

Comparing President Xi’s “Chinese dream” with the American dream highlights the difference between the two political and social systems. Xi extols China’s success in “rejuvenating the nation” by harnessing the talents and energies of its people in service of the state. By contrast, the American dream extols the success of the rugged individual who achieves upward social mobility and material prosperity by overcoming obstacles posed by social conventions or prejudices or authorities abusing their power, or sheer bad luck. The US would like China to adopt its values but the Chinese leadership considers them subversive.

In this respect China has more in common with Russia than with the US. Both Russia and China consider themselves victims of America’s aspiration to world domination. From the US point of view, there is much to disapprove of in China’s behavior. There is no independent judiciary and multinational companies are often mistreated and replaced by domestic favorites. And there are conflicts with the US and other nations in the South China Sea and over cyberwarfare and human rights. These are not matters on which cooperation will be easy to achieve.

Fully recognizing these difficulties, the US government should nevertheless make a bona fide attempt at forging a strategic partnership with China. This would involve identifying areas of common interest as well as areas of rivalry. The former would invite cooperation, the latter tit-for-tat bargaining. The US needs to develop a two-pronged strategy that offers incentives for cooperation and deterrents that render tit-for-tat bargaining less attractive.

The areas for cooperation may prove to be wider than is obvious at first sight. Cooperating with China in making President Xi’s financial reforms successful is definitely in the common interest. Success would fulfill the aspirations of the ever-increasing Chinese middle class. It may also allow Xi to relax some of the restrictions he has recently introduced and that would, in turn, increase the probability that his reforms will succeed and improve global financial stability. The weak point of his current approach is that both implementing and monitoring the reform process are in the same hands. Opening up the process to criticism by the media and civil society would greatly improve the efficacy of his reforms. This is particularly true of Xi’s anticorruption campaign. And if China followed this path, it would become increasingly attractive to the US as a strategic partner.

Negotiations between the US and China could not possibly be completed by October 2015, when the board of the IMF is scheduled to consider the composition of the SDR basket. Realistically it would take until President Xi’s state visit to Washington in September to complete the preparations. But there is much to be gained by extending the SDR deadline to 2016. China will then host the meeting of the G20, and 2016 will also be the last year of the Obama administration. The prospect of a strategic partnership between the US and China would mobilize all political forces in favor of international cooperation on both sides.

If a bona fide attempt fails, the US would then be fully justified in developing a strong enough partnership with China’s neighbors that a Chinese–Russian alliance would not dare to challenge it by military force. That would be clearly inferior to a strategic partnership between the US and China. A partnership with China’s neighbors would return us to a cold war, but that would still be preferable to a third world war.

The Trans-Pacific and Trans-Atlantic Partnerships, which are currently being negotiated, could offer an excellent opportunity for a two-pronged strategy but the current approach is all wrong. At present China is excluded; indeed the partnerships are conceived as an anti-Chinese alliance under US leadership. The president has asked Congress to give him and his successor authority for up to six years to negotiate trade agreements under fast-track rules that would deprive Congress of its right to introduce amendments. The bill has passed the Senate and at this writing is before the House. If the House approves, President Xi may be presented with an apparent threat on his visit in September. This is an appropriate response to China’s aggressive behavior in the South China Sea and elsewhere, but it leaves little room for an alternative approach. It would, as a result, be difficult for President Obama to make a bona fide offer of strategic partnership.

It is to be hoped that the House will not authorize putting the bill on a fast track. Instead of railroading the bill through Congress, it ought to be taken off the fast track. In that case, Congress would have plenty of time to correct the fundamental flaws in the proposed treaties that make them unacceptable as they are currently written. And that would also allow President Obama to make President Xi a genuine offer of a strategic partnership with China when he visits Washington in September.




Extreme Tracker

eXTReMe Tracker

Followers

Google Analytics


Learn chess strategies!