Saturday, May 28, 2016

স্বনির্ভর বাংলাদেশ নির্মাণে অবশ্যই ভারতের বিরোধিতা করতে হবে-ছফা



Muldhara Bangladesh - May 25, 2016

আহমদ ছফা

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। আমি এ রাষ্ট্রের নাগরিক। এই নিয়ে আমার গর্বের অন্ত নেই। অতীতের কোন সময়ে বাঙ্গালি একক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পেরেছে ইতিহাসে তেমন প্রমাণ বিশেষ নেই। শশাঙ্কের কথা বলা যায় বটে কিন্তু শশাঙ্ক বাঙ্গালি ছিলেন এই প্রমাণ কেউ হাজির করতে পারেনি। তারপরেও ভারতবর্ষের দিল্লীকেন্দ্রিক কেন্দ্রীয় শাসনের প্রতিকূলে এখানে নানা বংশের শাসকেরা রাজত্ব করেছেন। কিন্তু তাদের কেউই বোধ করি বাংলার মাটির সাক্ষাৎসন্তান ছিলেন না।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙ্গালি জাতি সর্বপ্রথম নিজেদের একটা জাতিরাষ্ট্র গঠন করে। বাঙ্গালি জাতির নিজস্ব একটি রাষ্ট্র গঠন করার ঘটনাটি ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি অচিন্তিতপূর্ব ঘটনা। উপমহাদেশের অন্য দুটি রাষ্ট্র ভারত এবং পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশ রাষ্ট্রটিকে অধিকতর রাষ্ট্রবিজ্ঞানসম্মত আধুনিক রাষ্ট্র বলে মেনে নিতে হয়। ভারত কিংবা পাকিস্তানকে জাতীয় রাষ্ট্র বলা যাবে না। ভারত রাষ্ট্র বটে কিন্তু ভারতীয় জাতি বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই। এ কথা ভারতীয় চিন্তানায়করাই বলতে আরম্ভ করেছেন। বাংলাদেশ একই সঙ্গে একটি রাষ্ট্র এবং জাতিও বটে।
এই রাষ্ট্রের জন্মপ্রক্রিয়াটিও লক্ষ করার মত। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সংগ্রামের উন্মেষ, স্বায়ত্তশাসন এবং স্বাধিকার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তার বিকাশ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে তার পরিণতি। বাংলাদেশের জন্মপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ঘটনা ভারতবর্ষের ইতিহাসকে প্রভাবিত করেছে। বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের পরে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ভাষা আন্দোলনের জন্ম নিয়েছে। বাংলাদেশের স্বায়ত্তশাসন আন্দোলনের অনুকরণে ভারতের আসাম, পাঞ্জাব এবং কাশ্মীর ইত্যাদি রাজ্যে স্বায়ত্তশাসন আন্দোলনের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে পাঞ্জাব এবং কাশ্মীরের জনগণ স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করেছে।
কথাটা অনেকেই বলে থাকেন। জিন্নাহর দ্বিজাতিতত্ত্ব মিথ্যা প্রমাণিত করে পাকিস্তান রাষ্ট্র-কাঠামোর ভেতর থেকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটেছে। এটা পুরা সত্য নয়, অর্ধসত্য। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর মতানুসারে ভারত হিন্দু-মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের দেশ [একথা যেমন সত্য] নয়, তেমনি গান্ধী-নেহেরু মওলানা আজাদের অনুসৃত মতবাদ মোতাবেক ভারত উপমহাদেশ এক জাতির দেশও নয়। ভারত বহুভাষী, বহুধর্মাবলম্বী এবং বহুজাতির জনগোষ্ঠির আবাসভূমি। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের মধ্য দিয়েই সেই সত্যটা প্রমাণিত হল।
আজকের যেটা বাংলাদেশ সেটা একসময়ে অবিভক্ত ভারতের অন্তর্গত অখণ্ড বাংলার অংশ ছিল। তারপরে এই অঞ্চল পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। এই প্রতিটি বিভাজনের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ নিজস্ব একটা স্বতন্ত্র চরিত্র অর্জন করেছে। আমরা পাকিস্তানের অংশ নই বলেই গর্ববোধ করি। একই কারণে ভারতীয় ইউনিয়নের একটি অন্তর্ভুক্ত রাজ্য নই বলেও আমাদের গর্বের অন্ত নেই।
আমি মুজিবের অন্ধভক্ত নই, কখনও ছিলাম না। তথাপি নির্মোহ বিচারে বাঙ্গালি জাতির দুহাজার বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁকে সবচেয়ে প্রণিধানযোগ্য ব্যক্তিত্ব মনে করি। আমার ভুল হতে পারে। তবুও এটা আমার বিশ্বাস। মুজিবের মূল্যায়ন করে একটি রচনায় আমি লিখেছিলাম বাঙ্গালির সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য চর্যাপদ নয়, বৈষ্ণবগীতিকা নয়, সোনার তরী কিংবা গীতাঞ্জলি কোনটা নয়, বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য গীতি হল–‘আর দাবায়া রাখতে পারবা না’।
[কোন] জাতিকে যদি টিকে থাকতে হয় তার নিজস্ব একটা নির্ভরযোগ্য অর্থনীতি থাকতে হবে। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সিকি শতাব্দী অতীত হয়ে গেল তবুও বিদেশি পর্যবেক্ষকরা একটি প্রশ্ন প্রায়শ করে থাকেন, ভারতের পূর্বপ্রান্তে যে একচিলতে ভূমি–যেখানে অভাবের করুণ হাহাকার এবং দারিদ্রের মর্মপীড়িত দীর্ঘশ্বাস বাতাসে রোদনের মত ঘুরে বেড়ায় সেই দেশটি–নিজের পায়ে ভর দিয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন হতে পারবে কি? এটা একটা খুবই প্রয়োজনীয় এবং মূল্যবান প্রশ্ন। অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন হতে না পারলে স্বাধীনতার গালভরা বক্তব্য অধিক তাৎপর্য বহন করে না।
বাংলাদেশের তিনপাশে রয়েছে ভারতের মত একটি শিল্পোন্নত রাষ্ট্র। সে পৃথিবীর নবমতম শিল্পোন্নত দেশ এবং আঞ্চলিক শক্তিও বটে। ভারতের ক্রমপ্রসরমান শিল্প-বাণিজ্যের অগ্রগতির প্রভাব অগ্রাহ্য করে বাংলাদেশ কি করে তার নিজস্ব একটি অর্থনীতি নির্মাণ করবে? এই জিনিশটি আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের চিন্তাভাবনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারেনি। কেউ ভারতপ্রীতি দেখিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। কেউ কেউ ভারতবিদ্বেষ মূলধন করে রাষ্ট্রক্ষমতা অধিকার করেছে। কিন্তু একটি স্বাধীন জাতীয় রাষ্ট্রের নিজস্ব একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক বুনিয়াদ তৈরি করার প্রয়াস কেউ গ্রহণ করেনি।
এই সংকীর্ণ পরিসরে বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ নেই। তবুও আমি মনে করি, একটা স্বনির্ভর [দেশ] নির্মাণ করতে হলে আমাদের কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবশ্যই ভারতের বিরোধিতা করতে হবে। এখানে অনেকে ভারত বিরোধিতা মানে হিন্দু বিরোধিতা বুঝে থাকে। কিন্তু আমি কথাটা বলছি সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে। ছোটদেশকে তার নিজস্ব অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনেই বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বড়দেশের বিরোধিতা করতে হয়। এর মধ্যে সংকীর্ণতা কিংবা হীনমন্যতা খোঁজার কোন অবকাশ নেই। ছোটদেশকে তার নিছক ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগ করে বৃহত্তর প্রতিবেশির প্রতিবন্ধকতার জাল ছিন্ন করতে হয়। যে জাতি ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগ করা শেখেনি তাকে বড় দেশের লেজুড় হিসেবে অস্তিত্ব রক্ষা করতে হয়।
নিছক শত্রুতা, নিছক ঘৃণা, নিছক বিরোধিতা–এগুলো কোন কাজের কথা নয়। অন্ধকারের শক্তির ওপর আস্থাস্থাপন করলে রসাতলে যাওয়ার পথটাই পরিষ্কার হয়। বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা, পারস্পরিক কল্যাণকামনা–এগুলো অত্যন্ত প্রয়োজনীয় জিনিশ। কিন্তু জাতীয় অর্থনীতির উজ্জীবনের প্রশ্নে বড়দেশের বিরোধিতা করা একটি স্বাস্থ্যকর লক্ষণ। তাইওয়ান যদি মূল চীনের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ না করত তো এত দ্রুত তার অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটত না। কোরিয়া জাপানের পার্শ্ববর্তী একটি অসহায় দেশ ছিল। শিল্পোন্নত জাপানের কাছে নতিস্বীকার না করে নিজের পায়ের ওপর দাঁড়াবার সময়োচিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার কারণে আজকের পৃথিবীতে কোরিয়া একটি সম্মানজনক স্থান অধিকার করতে পেরেছে।
ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশকে তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করার জন্য একটি নিজস্ব অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। নইলে ক্রমসম্প্রসারমাণ ভারতীয় শিল্পবাণিজ্যের চাপে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উত্থান সুদূর পরাহত হয়ে দাঁড়াবে।
প্রথম প্রকাশ: বাংলাদেশ: জাতি রাষ্ট্র এবং গন্তব্য, আজকের কাগজ, ২০ জুন ১৯৯৬, ৬ আষাঢ় ১৪০৩।

Tuesday, February 09, 2016

লাভ হয়েছিল কার- বি ডি আর হত্যাকান্ড, ফিরে দেখা ও অপ্রকাশিত কিছু সত্য




লেখকঃ আলফাজ উদ্দিন

By Zia Cyber Force on অক্টোবর ১০, ২০১৫

ফেব্রুয়ারির পিলখানায় নারকীয় সেনা হত্যাযঙ্গের কথা আজও ভুলতে পারেনি জাতি। কি হয়েছিল সেদিন? কারা বা কাদের নির্দেশে এই হত্যাযজ্ঞ সংগঠিত হয়েছিল?? উইকিলিকসের সেই কথাটিই প্রকাশ করে দিয়েছিল। সেনা হত্যা নিয়ে সেনাবাহিনীর গঠিত তদন্ত রিপোর্টে মোটামুটি উঠে এসেছিল সব কিছু। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হাসিনা সে তদন্ত রিপোর্ট বাতিল করে দিয়েছে। তবে অনলাইনের কল্যানে জনগণ সব জেনে গেছে ভেতরের গোপন কথা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সৈনিক ও অফিসার জানে – কেনো, কোন্ পরিকল্পনায়, কারা পিলখানায় ৫৭ জন সেনা অফিসার হত্যা করেছে। সেটাই সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা হলো।
১. RAW: ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘RAW’এর পরিকল্পনায় ও ব্যবস্থাপনায় ”পিলখানা হত্যাকান্ড” ঘটে। এর মূল লক্ষ্য ছিল- পাদুয়া ও রৌমারীর ঘটনার বদলা নেয়া এবং বিডিআর বাহিনী ধংস করে দেয়া। ২০০১ সালের এপ্রিল মাসে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বিডিআর-বিএসএফ যুদ্ধে ১৫০ জন বিএসএফ নিহত হয়। এর আগে পাদুয়ায় নিহত হয় ১৫ বিএসএফ। বিডিআর ডিজি মেজর জেনারেল এএলএম ফজলুর রহমানের নির্দেশে ঐ যুদ্ধে অংশ নেয় বিডিআর। ঐ ঘটনার পরে ভারতীয় ডিফেন্স মিনিষ্টার জসবন্ত সিং উত্তপ্ত লোকসভায় জানান, ”এ ঘটনার বদলা নেয়া হবে।” লক্ষ করুন, ১৯৭১ সালে যে সব শর্তে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত সামরিক সাহায্য দেয়, তার অন্যতম শর্ত ছিল “Frontier Guards will be disbanded” (CIA Report SC 7941/71). অর্থাৎ বাংলাদেশের কোনো বর্ডার গার্ড থাকবে না। কিন্তু স্বাধীনতার পরে নানা কারনে পাকিস্তান রাইফেলস বাংলাদেশ রাইফেলসে (বিডিআর) রূপ নেয়। বিডিআর বাহিনীটি ছিলো আধাসামরিক বাহিনী, যার মূল কমান্ড ও ট্রেনিং ছিলো সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের মত। অন্যদিকে ভারতের বিএসএফ ছিলো সিভিল বাহিনী, যাদের ট্রেনিং, জনবল সবই ছিলো নিম্নমানের। এসব কারনে বর্ডারে কোনো যু্দ্ধ হলে তাতে বিডিআর সামরিক পেশাদারিত্ব দিয়ে বিজয়ী হত। পাদুয়া-রৌমারীর বদলা নেয়ার জন্য বিডিআর বাহিনী ধংস করার পরিকল্পনা করে ভারত। এ লক্ষে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী সময়টিকে বেছে নেয়া হয়- যখন হাসিনার নতুন সরকারের ক্ষমতা গ্রহনের পর পর নাজুক সময়।
অনেকেই মনে করেন, ভারতীয় পরিকল্পনায় নির্বাচন ছাড়া অপ্রত্যাশিত পদ্ধতিতে হাসিনাকে ক্ষমতায় বসানোর নানা শর্তের মধ্যে একটি গোপন শর্ত থাকতে পারে “বিডিআর ধংস করা।” চুড়ান্ত ঝুকি থাকা স্বত্ত্বেও হাসিনাকে তা মেনে নিতে হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিডিআর সৈনিকদের দাবীদাওয়ার আড়ালে মুল প্লানটি বাস্তবায়নের জন্য মোট ৬০ কোটি রুপী বরাদ্দ করে ভারত। এর মধ্যে পিলখানায় ১৫ থেকে ১৭ কোটি টাকা বিলি হয়, যাতে প্রতিটি অফিসারের মাথার বদলে ৪ লক্ষ টাকা ইনাম নির্ধারন করা হয়। ১৯ ও ২১ ফেব্রুয়ারী ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বাছাই করা ১৫ জন শুটারকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয়, যারা পশ্চিম বঙ্গ সরকারের পাঠানো (প্রেমের নিদর্শন) ১ লক্ষ মিষ্টির সাথে বাংলাদেশে ঢুকে।
একজন বেসামরিক দর্জি’র কাছ থেকে বিডিআর এর পোশাক বানিয়ে বিডিআর সপ্তাহ উপলক্ষে পিলখানায় উপস্থিত থাকে শুটাররা। তাদের দায়িত্ব ছিলো লাল টেপওয়ালা (কর্নেল ও তদুর্ধ) অফিসারদের হত্যা করা। তারা একটি বেডফোর্ড ট্রাক ব্যাবহার করে ৪ নং গেইট দিয়ে প্রবেশ করে ২৫ তারিখ সকালে। ঘটনার দিন সকাল ১১টায় বাংলাদেশের কোনো সংবাদ মাধ্যম জানার আগেই ভারতের “২৪ ঘন্টা” টিভিতে প্রচার করা হয় জেনারেল শাকিল সস্ত্রীক নিহত। অর্থাৎ মূল পরিকল্পনা অনুসারেই খবর প্রচার করে ভারতীয় গণমাধ্যম! পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে বা আর্মির পদক্ষেপে শেখ হাসিনার জীবন বিপন্ন হলে তাকে নিরাপদে তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভারতীয় ৩০ হাজার সৈন্য, ছত্রীবাহিনী ও যুদ্ধবিমান আসামের জোরহাট বিমানবন্দরে তৈরী রেখেছিলো ভারত।
বিদ্রোহের দিন ভারতের বিমান বাহিনী IL-76 হেভি লিফ্ট এবং AN-32 মিডিয়াম লিফ্ট এয়ারক্রাফট নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে পূর্ণ সহায়তা দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলো। ঐ সময় প্রণব মুখার্জীর উক্তি মিডিয়ায় আসে এভাবে, “এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সব ধরণের সহায়তা দিতে ভারত প্রস্তুত। … আমি তাদের উদ্দেশ্যে কঠোর সতর্কবাণী পাঠাতে চাই, যারা বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে, তারা যদি এ কাজ অব্যাহত রাখে, ভারত হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না, প্রয়োজনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে।”
বিভিন্ন মাধ্যম থেকে এই বিষয়ে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করতে গিয়ে বারবার চোখ আটকে যায় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের একটি অতি পরিচিত একটি নাম “জাতির নানা” (ফেসবুকে বর্তমানে অনুপস্থিত) অয়ালে, তার অসাধারন লেখনি ও উপস্থাপিত তথ্য গুলোকে প্রকাশ করার তাগিদ থেকেই আজ আমার এই প্রয়াস। জাতির নানার দুই পরবে লেখা ২৫ ফেব্রুয়ারির রোমহর্ষক ঘটনার নেপাথ্য কথা আর কিছু প্রশ্ন আজ জাতির সামনে উপস্থাপন করা হোল।
প্রথম পর্ব: ডিসক্লেইমারঃ
২০০৯ এর ২৫ই ফেব্রুয়ারীতে বিডিআর এর ঘটনায় আমি হারিয়েছি আমার আপন চাচাত ভাই (লেঃ কর্নেল), ২জন ক্লোজ ফ্রেন্ড (মেজর), ২ জন প্রিয় প্রতিবেশীকে (১জন লেঃ কর্নেল, ১ জন মেজর,)। এদের কারোই আমি বিস্তারিত পরিচয় দিতে ইচ্ছুক নই। ২। কর্নেল গুলজারের ছবি এবং আমর চাচাত ভাই ও ফ্রেন্ড ছাড়া বেশ কিছু অপ্রাকাশিত ছবি প্রকাশ করা হবে। যাদের ছবি প্রকাশ করছি সেইসব হতভাগাদের লাশ তাদের সন্তান, স্ত্রী ও আত্মীয়দের দেখতে দেওয়া হয়নি তখন। যারা শেষ বারের মত তাদের প্রিয়জনকে দেখতে পায়নি ৬ বছর পর তারা এখন সেই প্রিয়জনের ছবিগুলো দেখবে।
=====================================================================

২৫ তারিখ সকাল ৮:৪৫ মিনিটে সেনাবাহিনীর এক ফ্রেন্ড আমাকে প্রথম ফোন করে ঘটনা জানায়। সংক্ষেপে ঘটনা বলে জিজ্ঞাসা করে ***** স্যার (আমার চাচাতো ভাই) কোথায়? জানালাম, উনিতো ভোরেই পিলখানার উদ্দশ্যে বেরিয়ে গেছে। সে আর কিছু না বলে শুধু বলল তুই এখুনি পিলখানায় চলে আয়। আমার চাচাত ভাই ঢাকার বাইরে থেকে এসেছিলেন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এবং আমাদের বাসায় উঠেছিলেন। ওইদিন সকালে শুধু এক কাপ চা খেয়েই বেরিয়ে যান উনার ব্যাক্তিগত গাড়ি নিয়ে। দরবার হলের অনুষ্ঠানের বিশেষ এক দায়িত্ব ছিলো তার উপর।
তাড়াহুড়া করে সকালের নাস্তাটাও করেনি। ভাইকে আমি ফোন করছি তো করছি, রিং বেজেই চলেছে…………… বাসার কাউকে তখনও কিছু বলিনি। আমি তাড়াহুড়ো করে বাসা থেকে বেরুচ্ছি, এমন সময় আরেক ফ্রেন্ড ফোন করে জানায় পিলখানার দরবার হলে ৫০ জনের মত সিনিয়র অফিসার শুট ডাউন। শুনে আমার সারা শরীর হিম শীতল হয়ে গেল। তাকে জানালাম, আমি পিলখানার উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছি। নিউ মার্কেটের সামনে পৌছেই এক র্যাবের গাড়ির দিকে তাকাতেই দেখি আমার মহল্লার এক র্যাব অফিসার, সিনিয়র মেজর, (ওরও এক আত্মীয় মারা গেছে ঐ ঘটনায়)। ওকে দেখেই ট্যাক্সি থেকে নেমে ওকে ইশারা দিতেই দৌড়ে আসে। তাকে জানালাম ভাইয়ের মোবাইলের এতক্ষণ রিং বাজছিলো কিন্তু এখন ফোন অফ।
সে নির্বিকার আমাকে জানালো ****** স্যার (আমার চাচাতো ভাই) এর আশা ছেড়ে দেন। প্রথম তার কাছে জানতে পারি আমাদের পরিচিত কারা কারা ভিতরে আছে। এর মধ্যে আমার আরও কয়েকজন আর্মি ফ্রেন্ড এর সাথে দেখা হয়। ঘটনা কি ঘটেছে বুঝতে আর বাকি রইলো না। এর ভিতর কিভাবে যেন আমার পরিচিত কয়েকজন জেনে যায় আমি পিলখানায় আছি। একটার পর একটা ফোন আসা শুরু হয়। যাদেরকে বলা প্রয়োজন মনে করেছি তাদেরকে সত্য কথা বলছি। কিন্তু কাঊকে কাঊকে এড়িয়ে গেছি। ঐ সময় আমিও কেমন যেন অনুভতিহীন হয়ে গিয়েছিলাম। আমি জানি, তাদের কাছের লোকটি নেই কিন্তু নির্বিকারে তাদের স্ত্রী, সন্তান, ভাই বোনদের বলে যাচ্ছি উনি ভালো আছেন/আছে, একটু আগে আমার সাথে কথা হয়েছে………… এমন মিথ্যা কথা বলে যাচ্ছিলাম নির্বিকারে।
টিভিতে লাইভে আপনারা যেভাবে সাংবাদিকদের মিথ্যাচার দেখছিলেন, আমিও ঠিক একিভাবে মিথ্যা বলে যাচ্ছিলাম আমার পরিচিত জনদের। কিছুক্ষণের ভিতর আমার মোবাইলে অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আশা শুরু করলো। কল করে বলে “অমুক আপনার ফ্রেন্ড হয় না? আমি তার , চাচা, মামা, খালাতো বোন, মামাতো বোন…………… আমার হাসবেন্ডের নাম লেঃ কর্নেল ****** আমার ছেলে/ভাই/ভাতিজা মেজর *****, ক্যাপ্টেন ***** আমিতো ওকে ফোনে পাচ্ছি না……… আপনিতো পিলখানায় আছেন………… একটু দেখবেন ও কোথায় আছে, কেমন আছে? একটু খোজ নিয়ে জানাবেন, প্লিস।“ আর আমি শূয়রের বাচ্চা, ইতর, হিজড়া নামক মানুষটি সবাইকে মিথ্যা বলে যাচ্ছিলাম। আমি এমন ভিরু, কাপুরুষ হয়ে গিয়েছিলাম যে কাউকে বলতে পারিনি যে আপনার স্বামী, ভাই, ছেলে আর জীবিত নাই।
যে কোন ভাবেই হোক আমি প্রতি মিনিটে নিহতদের আপডেট নামের তালিকা দেখছিলাম। পিলখানার ভিতর থেকে কেউ একজন প্রতিনিয়ত নিহতদের নাম প্রকাশ করে যাচ্ছিল সরকারের একটি বিশেষ সংস্থার কাছে। আমার সামনেই নামগুলো নোট করে নিচ্ছিলো সেই সংস্থার একজন। পিলখানার এই গেইট থেকে ঐ গেটে দৌড়াদৌড়ির মধ্যে দুই টিভি সাংবাদিকের খপ্পরে পড়ি। আমি তাদের একটিও প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে মাইক্রফোন সরিয়ে দিয়ে আমি আমার পথে যেতে থাকি।
টিভিতে লাইভে ঐ দৃশ্য আমার পরিচিতজন কয়েকজন আমার চেহারার অভিব্যাক্তি দেখে বুঝে ফেলে, বিশেষ করে আমার স্ত্রী নিশ্চিত বুঝে ফেলে। সে ঘরে কান্নাকাটি শুরু করে, এতে ঘরের সবাই বুঝে ফেলে আমার ভাই আর নেই। ওদিকে চাচা, চাচী আমার বাসায় ফোনের পর ফোন করতেছে। আমার ঘর থেকে কেউ সদুত্তর দিতে পারছে না, সুধু উত্তর দিচ্ছে ‘জাতির নানা’ পিলখানায় আছে। ওর সাথে কথা হয়েছে, সব ঠিক আছে। পিলখানায় উদ্ধার কাজ শুরু হওয়ার মুহূর্তে যে কয়জন পিলখানার ভিতরে যাওয়ার সুজুগ পেয়েছিলো আমি তাদের একজন।
যে কোন উপায়ই হোক আমি ভিতরে ঢুকেছিলাম। তার অনেক আগেই জেনে গিয়েছিলাম/বুঝেছিলাম আমি কাদেরকে হারিয়ে ফেলেছি। আমি ঢুকেছিলাম শুধু আমার হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনদের লাশ খুজতে। লাশ খুজতে খুজতে পাগলপ্রায় অবস্তা আমার। এর মধ্যে খবর পাই কিছু লাশ মিটফোর্ডে মর্গে নিয়ে গেছে। ছুটে যাই সেখানে। মর্গে গিয়ে দেখি সরকারী বাহিনীর বিশেষ কিছু লোকজন ছাড়া অন্যদের প্রবেশ নিষেদ। এক পরিচিত অফিসারের সহায়তায় আমি মর্গে ঢুকি। জীবনের প্রথম মর্গে ঢুকি। লাশগুলো কিছু উপড় হয়ে আছে কিছু কাত হয়ে আছে। ৬-৭টা লাশ উলটিয়ে দেখতে গিয়ে প্রথম পাই আমার প্রতিবেশী সিনিয়র ভাইয়ের (লেঃ কর্নেল)।
তার চেহারা দেখে মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠে। সাথে সাথে মর্গে থেকে বেরিয়ে পড়ি। পিলখানায় ও হাস্পাতালে দৌডাদৌডিতে অনেক হতভাগা নিহতের আত্মীয় সজনের কাছে চেনা মুখ হয়ে যাই। তখন এক হতভাগা নিহতের আত্মীয় এসে একটা ছবি দিয়ে বলে লাশটা আইডিন্টিফাই করার অনুরোধ করে। এর মধ্যে আরো কয়েকজন ছবি, নাম ও রেঙ্ক লিখে চিরকুট দেয়। আবার ঢুকে ভাইয়ের লাশ খোজা শুরু করি, একপর্যায়ে পেয়েও যাই। ভাইয়ের লাশ পেয়েও আমি কিভাবে যেন নির্বিকার ছিলাম।
অনুভুতিহীন হয়ে গিয়েছিলাম। তারপর পকেট থেকে কয়েকটা ছবি ও নাম দেখে কিছু লাশ আইডিন্টিফাই করার চেষ্টা করলাম। বেশিরভাগ লাশের নেমপ্লেট ছিল না। হঠাৎ মাথায় এলো মোবাইল দিয়ে কিছু ছবি তুলে বাইরে আত্মীয় স্বজনদের দেখালে হয়তো চিনতে পারবে, আমিতো ছবির সাথে লাশের কোন মিল খুজে পাচ্ছিলাম না। বেশ কিছু ছবি তুললাম সরকারী বিশেষ সংস্থার লোকদের চোখ ফাকি দিয়ে। আবার বাহির হয়ে দুজনকে ছবিগুলো দেখাচ্ছিলাম, পাশ থেকে এক মহিলাও ছবিগুলো দেখছিলো যা আমি খেয়াল করিনি। হঠাৎ ধুপ করে আওয়াজ শুনে পাশে ফিরে দেখি এক মহিলা মাটিতে পড়ে আছে।
তার সাথের লোকটি জানালো আমার ঐ ছবিগুলোর মধ্যে ঐ মহিলার স্বামীর ছবি ছিলো। ২৬শে ফেব্রুয়ারি মাঝ রাতে বাসায় ফিরি। এই দুই দিন খেয়েছিলাম ২টা কলা আর ২ পিস ব্রেড। তার পর মাসখানেক কিছু খেতে পারিনি। আগামী ফেব্রুয়ারির ২৫ ও ২৬ তারিখে অনেকের বাসায় আমাকে দাওয়াত দিবে মৃত্যু বার্ষিকীর মিলাদ মাহফিলে। গত ৪ বছরও যাইনি, আগামীতেও যাব না।
যে সব অফিসারদের স্ত্রী কন্যা, পুত্রদের ২৫ তারিখ সন্ধ্যায়ও বলেছিলাম উনি জীবিত আছে তারা জানে যাদের প্রিয় মানুষটির মৃত্যু হয়েছে ২৬ তারিখে। আমার মিথ্যা কথার উপর ভিত্তি করে তারা ২৬তারিখ মৃত্যু বার্ষিকী পালন করে। সেইসব পরিবারের মুখোমুখি হওয়ার সাহস আমার আজ হয়নি। আমার নিজের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া সেই বিভীষিকাময় ‘ঘটনা’ এবং ‘ঘটনার পিছনের ঘটনা’ হয়তো একদিন কেউ না কেউ প্রকাশ করবে। সেদিন একটা কথা অনুধাবন করতে পেরেছিলাম যে ঘরের মালিক যদি নিজের ঘর জ্বালিয়ে দিতে চায় তাইলে প্রতিবেশী সেই আগুন নেভাতে পারে না।
সেদিন র্যাব-১ এর দুই পিকআপে ১৬ জন ছিলো। তাদের কমান্ডিং অফিসার বার বার তার মহাপচালিকের কাছে অনুমতি চাইছিলো একশানে যাওয়ার। কিন্তু হায় অনুমতি মিলেনি। ঐ অফিসারকে দেখেছি দাঁত কিড়মিড় করে বার বার তার মহাপরিচালকের কাছে বলছে, “স্যার, পারমিট মি পারমিট মি।” যদি অনুমতি মিলতো তাইলে এত অফিসারের প্রাণহানি হত না। অধিকাংশ গুলিবিদ্ধ অফিসারকে উদ্ধার করে বাঁচানো সম্ভব ছিলো। অনেক অফিসার গুলিবিদ্ধ হয়েও রাত পর্যন্ত জীবিত ছিলো। জীবিত অবস্থায়ই তাদের মাটি চাপা দেওয়া হয়েছিলো। র্যাব নিজস্ব সোরচে আগেই খবর পেয়েছিলো এবং প্রস্তুতি নিয়েই পিলখানা গেইটে অবস্থান নিয়েছিলো সকাল সাড়ে আটটায়। গেইটের বাইরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এসএমজি’র গুলির আওয়াজ শুনেছে। র্যাবের ঐ দুটা টিমই যথেস্ট ছিলো ভিনদেশী ১২ জন হায়েনাকে প্রতিহত করার।
এত ট্যাঙ্ক, কামান আর হেলিকাপ্টারের দরকার ছিলো না। সেদিন র্যাব-১ যদি একশানে যেতে পারতো সারা দুনিয়ার সামনে ভিন্ন কিছু উম্মচিত হত। আপনারা বিভিন্ন মিডিয়ায় যে সব ঘটনা, পৈচাশিক ঘটনার কথা শুনেছেন তা আমার দেখার সাথে মিলে না। ছবিগুলো দেখে কি আপনারা বলতে পারেন, যাদেরকে মারা হয়েছে তারা পাগল পশু ছিলো নাকি যারা এভাবে মেরেছে তারা পাগল পশু ছিলো???
দ্বিতীয় খন্ডঃ সাক্সেসরস
প্রথম নোট দেওয়ার পর ইনবক্সে তিনশর বেশী ম্যাসেজ পাই। অধিকাংশই হতাশা, সহানুভুতির, রাগের ক্ষোভের। অনেকেই অনেক প্রশ্ন করেছেন যেগুলোর উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। শ খানেক ম্যাসেজ পড়েছি, সংক্ষেপে উত্তর দিইয়েছি। আপনাদের ম্যাসেজ পড়ে মনে হয়েছে আপনারা হতভাগা সেনা অফিসারদের আত্মীয় বা কাছের কেউ। প্লিস আমাকে আর ইনবক্সে কিছু জিজ্ঞাসা করবেন না, আপনাদের সব জিজ্ঞাসার উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়]
===============================================================

২৬ ফেব্রুয়ারী ২০০৯। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার পিলখানায় নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ইতিহাসে নজিরবিহীন। বাংলাদেশ রাইফেলস এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ সহ ৫৭ জন বিভিন্ন পদবির চৌকশ সেনা অফিসারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হত্যাকারীরা মহাপরিচালক শাকিলের বাসস্থানে তাঁর স্ত্রীর উপর নারকীয় পৈশাচিক নির্যাতনের পর তাঁকে হত্যা করে। কতিপয় দেশদ্রোহীর সহায়তায় পিলখানার দরবার হল থেকে সেনা অফিসারদের বাসস্থান পর্যন্ত অকাতরে গুলি চালিয়ে হত্যা, স্ত্রী সন্তান্দের উপর পৈশাচিক নির্যাতন, হত্যার পর লাশ ড্রেনে ফেলে দেয়া, মাটি চাপা দেয়া এবং পুড়ে ফেলার মত ধ্বংস যজ্ঞ চালায়। জাতির প্রতিটি মানুষ সে দিন এই আকস্মিক অভাবনীয় হত্যাযজ্ঞের শোকে কষ্টে স্তম্ভিত হয়ে যায়।
শোকাহত পরিবাররের মানুষ গুলোর হৃদয়ে এখনও রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে। এ ঘটনার পর আজও বিবেকবান সকলের মনে প্রশ্ন বিশেষ করে দেশ প্রেমিক চিন্তাবিদ ও সমরিক বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন –এই হত্যা যজ্ঞ কি মিউটিনি নাকি আভ্যন্তরীণ এবং বহিঃ ষড়যন্ত্রের অংশ? ঘটনার প্রেক্ষাপট, স্থান, ঘটনার গভীরতা, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন, ঘটনা পরবর্তী সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম এবং মিডিয়ার প্রভাব অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এই লেখায় আমি সুধু সেই সময়ের নিজের দেখা ঘটনার একটা খুদ্র অংশ প্রকাশ করলাম। ঘটনা সামনে থেকে দেখে নিজের কিছু প্রশ্নের উত্তর খুজছি। আচ্ছা, আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী দ্বারা কারা কারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলো? ১। শেখ হাসিনা ? ২। শেখ সেলিম ? ৩। তাপস ? ৪। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ? উপরের চারটা প্রশ্নের উত্তর ‘হাঁ’ এই ঘটনায় প্রথম তিন বাংলাদেশীর কথা পরে আলোচনা করি। ৪র্থ ক্ষতিগ্রস্থ ভারত।
আপনাদের নিশ্চয় রৌমারীর ঘটনা মনে আছে?? ২০০১ সালের ১৮ই এপ্রিল রাতে বিএসএফ বাংলাদেশের বেশ কিছু ভুখন্ড দখলের উদ্দেশ্যে রাতের আধারে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রৌমারীর বড়াইবাডি গ্রামে প্রবেশ করেছিলো দশ প্লাটুন বিএসএফ। তৎকালীন বিডিআর এর বিডিআর মহাপরিচালক আ ল ম ফজলুর তাৎখনাত আদেশ দিয়েছিলেন কাউন্টার অ্যাটাকে যেতে। সেই রাতে মাত্র বিডিআর দুই প্লাটুন সৈন্য গ্রামবাসীদের সাথে নিয়ে বিএসএফ উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। দুদিন যুদ্ধ চলে। ফলাফল??? আপনারা পত্রিকায় দেখেছে বিএসএফ এর ২২জন, কোন পত্রিকায় ৪০ কোন পত্রিকায় ৭০জন, ৮০ জন এমন বিভিন্ন রকমের তথ্য পেয়েছেন। বিএসএফ নিহতের সঠিক সংখ্যা ভারত সরকারও গোপন করেছে তেমনি বাংলাদেশ সরকারও গোপন করেছে। ঐ ঘটনার পরের দিন অফিসিয়াল কাজে বুড়িমারী গিয়েছিলাম। কাজ সেরে দুপুরের পরে স্থানীয় এক ছেলেকে সাথে নিয়ে রৌমারী বিডিয়ার ব্যারাকে যাই। সেনাবাহিনীর যে দুজন অফসারের নেত্রিত্তে কাউন্টার অ্যাটাক হয়েছিলো তাদের মুখে ঐ রাতের কথা শুনি।
তাদের কথার সারসংক্ষেপ হল এই বিজয়ের ফুল ক্রেডিট বড়াইবাডি গ্রামবাসীর। গ্রামবাসীরা বিডিয়ার এর সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে বিএসএফ কচুকাটা করে। বড়াইবাড়ির বিডিআর এর সাথে সেই রাতে যুক্ত হয়েছিলো জামালপুর থেকে কর্নেল শায়রুজ্জামানের নেতৃত্বে অতিরিক্ত ফোর্স। ঐ দুই অফিসারের ভাষ্য অনুযায়ী দুই ট্রাক বিএসএফ এর মৃতদেহ বাংলাদেশ ভূখণ্ড থেকে খুজে খুজে সরিয়ে নেয়। ঐ গ্রামের কয়েকজনের ভাষ্য অনুযায়ী তিন ট্রাক বিএসএফ এর মৃতদেহ সরানো হয়েছিলো। আসা করি বিএসএফ এর লাশের সংখ্যা অনুমান করতে পারছেন। রাতের আধারে অপরিচিত টেরিটোরিতে ঢুকে বিএসএফ বিডিয়ার এর অতর্কিত অ্যামবুশে পড়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে গিয়েছিলো। সেইসাথে গ্রামবাসীর দা কুড়ালের আক্রমনের শিকার হয়েছিলো। দুদিনের যুদ্ধে বেশকিছু গ্রামবাসী ও কয়েকজন বিডিআর আহত হয়েছিলো।
বেশ কিছু ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছিলো বিএসএফ। চারজন দেশপ্রেমিক বিডিআর শহীদ হয়েছিলো সেদিন। সেই ঘটনার জের ধরে তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক আ ল ম ফজলুর চাকরী হারিয়েছিলেন। সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। শেখ হাসিনা বিডিআর সদস্যদের ধন্যবাদের বদলে শাসিয়েছিলেন বলে গ্রামবাসিরা অভিযোগ করে। এই ঘটনা বলার পিছনে কারন আছে। পরের পর্বগুলোতে এর ব্যাখ্যা দিব। যদিও আপনারা এর নেপথ্য জানেন। এর বাইরেও মনের ভিত কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খায় যার উত্তরগুলো এখনো আমার অজানা। এই ঘটনার পুনঃতদন্ত হলে এইসব প্রশ্নগুলো সামনে আসবেঃ ১। আমার মত একজন সাধারন নাগরিক যখন সকাল ৯টার এর মধ্যে জেনে যায় ৩৭ জন অফিসার মারা গেছে সেখানে সকাল ১১টায় প্রধান মন্ত্রী কি করে সাংবাদিকদের বলেন, পিলখানার অভ্যন্তরে হতাহতের কোন খবর জানেন না!!!!!! ২। পিলখানায় মুল হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় মাত্র ১২ জন। যারা ৯:১৫ মিনিটের মধ্যে পোশাক পরিবর্তন করে বের দেয়াল টপকিয়ে হাজারীবাগ এলাকা দিয়ে বের হয়ে যায়। তাদেরকে ২টি এম্বুল্যান্সে এয়ারপোর্টে পৌছে দেওয়া হয়।
দুইটা পুলিশের গাড়ি এস্করট করে তাদের বিমান বন্দরের ভিয়াইপি গেইট দিয়ে ধুকানো হয়। কার নির্দেশে সেই দিন বিমানে ফ্লাইট ৩০ মিনিট দেরি করে? কারা ঐ দিন বিমান বন্দরের নিরাপত্তায় ছিলো? ৩। সকাল ৭টায় রংপুর থেকে এক ডিজিএফাই এর এক মেজর পিলখানায় তার বন্ধুকে ফোন করে বলে, “বাচতে চাইলে পিলখানা থেকে এখনই বের হয়ে যা।” পিলখানার অফিসারটি তাৎক্ষনাত বের হতে না পারলেও ঘটনার পরে জীবিত অবস্থায় বের হয়!!!- এই কথা বলছি এই কারনে যে ডিজিএফাই এর একটা অংশ এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ছিলো??? ৪। ঘটনার পরের দুমাসের ভিতর কতজন অফিসার ক্যান্টমেন্টের অভ্যন্তরে অপঘাতে বা দুর্ঘটনায় মারা যায়??? একজন মারা যায় হেলিকাপ্টার এক্সিডেন্টে। এদের অধিকাংশই সারভাইবাল বা পিলখানা থেকে জীবিত ফেরত এসেছিলো। CMH এ চিকিৎসারত অবস্থায় কয়জন অফিসারের স্মৃতিভ্রম হয়েছে??? সেনাকুঞ্জে সেসব অফিসার শেখ হাসিনার সাথে উদ্যত আচরন করেছিলো তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছিলো???
৫। সারা দেশ থেকে আগত কয়েক হাজার বিডিআর জওয়ানকে আটক করার পর ৬০ জনের মত জওয়ান হার্ট অ্যাটাকে বা গলায় গামছা পেচিয়ে মারা যায়!!! এরা কি ঘটনার পিছনের আসল ঘটনা জানতো??? ৬। কর্মরত ডিবি, র্যাব, পুলিশ বা ডিজিএফআই কে ইনভল্ব না করে কি কারনে আবসরে যাওয়া ডিবির আবুল কাহার আকন্দকে ডেকে এনে এর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো??? এই ফরমায়েশি তদন্তকারী কি হত্যার আলামতগুলো হেফাজত করেছেন নাকি চিরতরে শেষ করে দিয়েছেন?? সিসি টিভির ফুটেজগুলো কি সংরক্ষণে রেখেছেন নাকি আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছেন??? ৭। সারভাইবালদের থেকে কাকে কাকে পুরুস্কিত করা হয়েছিলো??? এমনও দেখা গেছে মেজর পদমরর্যদার কাউকে ইউএন মিশনে দৈনিক ১৮০ ডলার বেতনের লোভনীয় পদে পোস্টিং দেওয়া হয়েছিলো!!!!! সচারাচর এধরনের বেতনে পাঠানো হয় কর্নেল/ব্রিগেডিয়ার পদমরর্যদার কাউকে!!! এমনভাবে পুরস্কৃত করার পিছনে বিশেষ কোন কারন নাই তো???

Saturday, August 29, 2015

সচেতনের সন্দেহ সন্ত্রাসীর দিকে!



নাজমা মোসত্মফা 


সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে সব সময়ই শিষ্টের বদলে দুষ্টের কথাই মনে পড়ে সবার আগে৷ ঘটনার বিবরণে প্রকাশ মুজিব হত্যার পর তার মন্ত্রীসভার সব সদস্যরা পরবতর্ী মোশতাকের মন্ত্রী সভাতে যোগ দেন৷ সেদিন খোদ আওয়ামী লীগের মনত্মব্য ছিল, ফেরাউন ধ্বংস হলো৷ এটি বলার বহুবিধ কারণ বর্তমান ছিল৷ সেদিনের ট্যাংকবাজরা আজ টকবাজ হয়ে ঐ দলের প্রথম সারিতে অবস্থান করে সমানেই উত্‍কট ব্যাঙ্গোক্তি করে চলেছেন৷ ইউটিউবে দেখা যায় শেখ সেলিম ও ওবায়দুল কাদের নিজ দলের অপকর্মের ফিরিসত্মি স্বজ্ঞানে মেনে নিয়ে মনত্মব্য রাখছেন৷ এসব বছর কয় থেকে আমরা দেখে অভ্যসত্ম হয়ে আছি৷ "আওয়ামী স্ক্যান্ডাল" দিয়ে সার্চ দিলেই সব তর তর করে বেরিয়ে আসে৷ আওয়ামীরা অপকর্মে যে কতদুর হাত দাগাতে পারে, এর উদাহরণ শত শত চারপাশে ছড়ানো৷ সেদিন এক বোন বলছিল 'আজকাল বিয়ের প্রসঙ্গে ছেলেরা কেউ আওয়ামী লীগ হলে মানুষ ধরে নেয় এর বখাটে হবার সম্ভাবনাই অতিরিক্ত৷ বিবেচনা পাঠকের জমা খাতাতেই থাক৷ রাজনীতির যে রংবাজি খেলা চলছে সারা দেশ জুড়ে, দেশের মানুষ নীতি নৈতিকতা ভুলেই গেছে৷ এসব আর কোন অভিধানে জমা নেই৷ ধরো মারো খাও এটি হচ্ছে ৰমতাসীন দলের রাজনীতির ভাষা৷ বয়স্ক বিরোধী রাজনেতাদের কারাগারে নিয়ে রিমান্ড দিচ্ছে সরকার৷ কারণ কালো আইনের বদৌলতে নিজেরা সারা পাড়াময় মসত্মানী করলেও সারাৰণ বিরোধীরাই আসামী হচ্ছে আর গোটা জাতি জীবনযুদ্ধে বিপর্যসত্ম সময় কাটাচ্ছে৷ ৫৭ ধারার অপব্যবহারের প্রতিবাদে সম্পাদকেরা প্রতিবাদ করছেন৷ বর্তমান সময়ে মাহমুদুর রহমানের মত সজ্জনরা কারাগারে, কুজনরা সমানেই মাঠে ময়দানে মসত্মানী করে বেড়াচ্ছে৷ ধারাবাহিকভাবে বহুদিন থেকেই সরকার রাখঢাকা না রেখেই প্রকাশ্যে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে তার দলবাজদের হাতে৷ সংবাদের শিরোনাম ১২,০০০ অস্ত্রের লাইসেন্স, এক আসনেই ৩,০০০৷ এসব উন্নয়নের জোয়ার এর আলামত মাত্র৷ লীগযুক্ত সদস্য, স্বজন, ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকমর্ীরা অস্ত্র পাচ্ছে৷ বিগত ৬বছর আট মাসে ১২,০০০ আর এ যাত্রা ছলের নির্বাচনের পর মাত্র ৩,০০০৷ এ হচ্ছে দেশের অল্পপরিধি অস্ত্র আর সন্ত্রাসীদের হিসাব৷ এভাবে দেশকে মৃত্যু উপত্যকা বানানো হচ্ছে৷ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে কিছু বিধি নিষেধ ছিল যে, লাইসেন্সধারীদের টেঙ্ পরিশোধ করতে হবে৷ নতুন সংধোশনীতে স্পিকার, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিচারক থেকে শুরম্ন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত কোন ব্যক্তির ৰেত্রে আয়কর দিতে হবে না৷ কি অদ্ভুত সোয়ারীর পিঠে চলেছে এ দেশ! লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে রাজনীতির বিবেচনায় আর বেশিরভাগ পাচ্ছেন লীগের গডফাদাররা৷ একটি খবরে চোখ আটকে গেল৷ ২০৪১সাল পর্যসত্ম আওয়ামী লীগের ৰমতার জবরদখল চাই৷ "তোরা যে যা করিস ভাই আমার সোনার হরিণ চাই"৷ সারা দেশের সুস্থ মানুষ মেরে তক্তা বানাচ্ছে সরকার, ঢালছে পেট্রোল বোমা আর বলছে বিরোধীরে ধর৷ একটি "পেট্রোল বোমা ফাইলে" দেখলাম তথ্য প্রমাণসহ প্রায় ডজন উদাহরণ ছবিসহ বর্তমান, যেখানে সরকারের দাগীরা ধরা পড়েছে৷ তারপরও সরকার চিত্‍কার চেচামেচি করছে এসব বিরোধীর কাজ৷ ধারণা করি আজও বাংলাদেশের অনেকের ভেতর বিবেক নড়েচড়ে৷ এক মন্ত্রী বলছেন, বর্তমান ছলের প্রধানমন্ত্রীই হবেন আগামী নির্বাচনে সরকার প্রধান, বিএনপি মানুক না মানুক৷ গোটা জাতি আজ কপটের হাতে জিম্মী৷ ধুকে ধুকে মরছে আর বিড়ম্বিত স্বাধীনতার স্বাদ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে৷ পুলিশকে ফুলিশ বানিয়ে জাহান্নামের চেলা বানিয়ে কিনে রেখেছে সরকার৷ উঠ বললে উঠে, বস বললে বসে৷ স্বজ্জন ব্যক্তিদেরই দুর্দিন৷ জাতির দুর্দিনে সম্মুখ সমরে দাঁড়ানোর অপরাধে বহুবিধ মামলায় ৮০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ৷ ইতিহাস ও ধর্ম বলে এরকম অবস্থায় আলস্নাহর গজব নেমে আসে ধুলির ধরাতে৷ এত বাড় ভালো না, গোটা দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে৷ দৈবের কর্ম বড়ই শক্ত, ফেরাউন নমরম্নদ সাদ্দাদ যুগে যুগে উদাহরণ হয়ে আছে৷ নিজ হাতে গড়া বেহেশতের বসতি সাদ্দাদের ভাগ্যে জুটে নি৷ প্রতি বিরোধীনেতার পেছনে ডজন ডজন মামলা৷ বাহাদুররা হাততালি দিচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তো নারী না, দেশের একমাত্র পুরম্নষ৷ ১৬ কোটি জনতার দেশে একজন পুরম্নষ৷ শেখ সাদি বলেছিলেন, "আমি তারেই বেশি ভয় পাই, যে মোটেও আলস্নাহকে ভয় পায় না৷" 

 
১৫ ই আগষ্ট ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস আর বাংলাদেশে মুজিব হত্যা দিবস৷ সেদিন ভারত ২৭ আগষ্ট স্বীকৃতি দিলে চীন দেয় ৩১ আগষ্ট
, বৃটেন ১৮ আগষ্ট আর যুক্তরাষ্ট্র ২২ আগষ্ট ৷ এর কিছুদিন আগে ভারতের রাষ্ট্রদূতের সাথে মোশতাকের সাৰাত্‍ হয়৷ (মিযানুল করিম, নয়াদিগনত্ম, ২২ আগষ্ট ২০১৫)৷ এসব হচ্ছে রাজনীতির খেলা৷ মুজিব হত্যার পর কোন মানুষ গোটা দেশে রাও করেনি, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ছাড়া, মতিউর রহমান রেন্টুও ঐ প্রতিবাদে শরিক ছিলেন, তার লেখা থেকে জানি৷ ক্রসফায়ার সুবিধাবাদীরা মারছে, একজনকে মেরে অন্যকে বাঁচানোর প্রয়াস চলছে, মন্ত্রী মনত্মব্য করছেন সরকার একশনে নেমেছে৷ মানুষ মনত্মব্য করছে, চুনোপুঠি মেরে রাঘব বোয়ালকে বাঁচানোর কসরত চলছে৷ স্বজ্জনকে মারা আওয়ামীদের বহু পুরানো ক্রেডিট৷ ওতে হাত দাগিয়েছেন খোদ শেখ মুজিবও৷ যদিও তিনি নিজে মুক্তিযুদ্ধে ছিলেন না, কিন্তু নষ্ট দলবাজদের বাঁচাতে সম্ভবত তিনি এ কাজে হাত দাগিয়েছিলেন৷ জহির রায়হানকে কেন হত্যা করা হলো? এ বিতর্ক সেই স্বাধীনতার সময়কাল থেকেই নিরব যুদ্ধের মত কানে বাজে৷ জহির রায়হান ছিলেন জাতির এক মেধাবী সনত্মান৷ শহীদুলস্নাহ কায়সারের ভাই হলেও শহীদুলস্নাহ হত্যার বিচার চাই কিন্তু জহির রায়হান হত্যার বিচার চাইতে লজ্জা কেন? সাহসী এ সনত্মান সেদিন বলেছিলেন সাংবাদিক সম্মেলন করে শ্বেতপত্র প্রকাশ করবেন৷ তিনি আওয়ামীদের সব অপকর্ম তথ্য প্রমাণসহ জমা করেছেন, সব উন্মোচন করে দেবেন৷ পরিণতি হলো সাগর রম্নণির মতই৷ সেখানে জমা ছিল মুজিবনগর সরকারের সব গোপন তথ্য, তিনি হাটে হাড়ি ভেঙ্গে দেবেন৷ হাটে হাড়ি ভাঙ্গার জন্য ওটিই কি কম? শেখ মুজিবের হাড়ি সেদিন থেকেই ভেঙ্গেছে৷ এসব নিয়ে কথা হয় না, কার স্বার্থে এসব হয়? মুক্তিযুদ্ধ পরবতর্ী ঐ গুমের ইতিহাস ঐদিন থেকে শুরম্ন হয়েছে ৷ এসব তথ্যাবলি বাংলাদেশের পত্র পত্রিকাতে হালকাভাবে হলেও এসেছে৷ শেখ মুজিবও সেদিন জহির রায়হানের বড়বোন নাসিমা কবিরকে ডেকে নিয়ে হুমকি দেন যে, চিত্‍কার চেঁচামেচি করলে তাকেও গুম করে দেয়া হবে৷ তা জাতি জেনেছে জহির রায়হানের স্ত্রী সুমিতা দেবীর সাৰাত্‍কার থেকে (দৈনিক আজকের কাগজ, ৮ ডিসেম্বর ১৯৯৩ সাল)৷ ঐ দিন তিনি আরো বলেন যে রফিক নামের ব্যক্তি কল করে ডেকে নিয়েছিল জাহির রায়হানকে (তিনি আর ফিরে আসেন নি)৷ আসামী রফিককে পরবতর্ীতে বিদেশে নিরাপত্তার স্বার্থে পাঠিয়ে দেয়া হয়৷ ভারতে থাকা অবস্থাতে ঐ দলের চুরি দুনর্ীতি, অবৈধ ব্যবসা, যৌন কেলেংকারীসহ নানা অপকর্মের প্রামাণ্য দলিল তার কাছে ছিল৷ ওটিই তার জীবনের কাল হয়ে দাড়ায়৷ বিডিআর বিদ্রোহের মত এক ভ্থয়া তদনত্ম কাজ করেছে আওয়ামী লীগ জহির রায়হানকে নিয়ে৷ এটি ঘটে ১৯৭৫ সালে৷ "এর আগে জহির রায়হানসহ অনেক বুদ্ধিজীবিকে হত্যা করা হয়েছে৷ কই তাদের তো বিচার হলো না" (অনল রায়হান, জহির রায়হানের মেজো ছেলে, দৈনিক বাংলা, ৯ আগষ্ট ১৯৯৯ সাল)৷ ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারী বড় ভাই শহীদ সাংবাদিক শহীদুলস্নাহ কায়সারকে খুঁজতে গিয়ে মিরপুর থেকে তিনি ইলিয়াস আলী ও আরো অনেকের মতই গায়েব হয়ে যান৷  ষ্টুয়ার্ড মুজিব বলে আর একজন নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি যিনি ৯ নম্বর সেক্টরের অধীনে এবং পরে ৮ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন৷ স্বাধীনতার মাত্র সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই ঢাকার গুলিসত্মান চত্বর থেকে হাইজ্যাক হয়ে যান স্টুয়ার্ড মুজিব৷ এভাবে আর একটি উজ্জ্বল নৰত্র হারিয়ে যায় মুজিব সময়কালীন ৰমতাশীনদের কপট কারসাজিতে৷ ভারতে প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধাদের পাশে 'মুজিব বাহিনী' বলে আর একটি দল গঠন করতে হয়৷ ঐ মুজিব বাহিনী যুদ্ধে অংশ নেয়ার সুযোগই পায়নি, যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়৷ তখনকার অবস্থাপন্ন ছাত্রলীগেরাই এর সদস্য ছিল৷ এর ট্রেনিং চলে "র"এর মেজর জেনারেল উবানের নেতৃত্বে দেরাদুনে, যেখান থেকে এরশাদও পরবতর্ীতে হাত দাগান৷ এদের তৈরী করা হয় পরবতর্ীতে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদেরে খতম করার জন্য৷ এসব তথ্য জানা যায় মেজর অবসরপ্রাপ্ত এম এ জলিলের "অরৰিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা" গ্রন্থ থেকে, পৃষ্ঠা ৩৯-৪১৷ ১৯৭৪ সালে 'কালো আইন' করা হয় অভিযোগ ছাড়াই মানুষ আটক করার জন্য৷ বর্তমানে ঢাকাতে মামলা হয়েছে ৪ হাজার৷ খালেদা জিয়ার বিরম্নদ্ধে চলছে ১৩টির বিচার, তারেক রহমানের বিরম্নদ্ধে ৭৬টি, মির্জা ফকরম্নলের বিরদ্ধে ৭৮টি, রিজভী আহমেদের বিরম্নদ্ধে ৪৪টি, ভারতে অবস্থানরত সালাহ উদ্দিনের বিরম্নদ্ধে ২৭টি এভাবে হাজার হাজার মামলা চলছে, স্বাধীন দেশের মঙ্গলের পৰে কথা বলায় এরা অপরাধী৷ বিএনপির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, "সরকারের কৌশল হচ্ছে দ্রম্নত বিচার শেষ করে খালেদা জিয়াকে জনসমৰে হেয় প্রতিপন্ন করে সাজা প্রদান করা"৷ 



 


আগষ্ট হচ্ছে চিকন মাথার সন্ত্রাসীদের অংকের মাস৷ একযোগে ৬৩ জেলাতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে, সময়টি খেয়াল করবেন বিগত জোট সরকারের সময়ে, ২০০৫ সালের ১৭ই আগষ্ট! এর ঠিক এক বছর আগে ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে তখনকার বিরোধী নেত্রী শেখ হাসিনার সভাতে গ্রেনেড হামলা হয়, বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে! পাঠক লৰ্য করবেন ঐদিন সন্ত্রাসবিরোধী সভা চলছিল৷ খোলা ট্রাকে নিজেদের বানানো উন্মুক্ত মঞ্চে ভাষণ দিচ্ছেন শেখ হাসিনা৷ বক্তৃতা শেষ, মাত্র শোভা যাত্রার উদ্বোধনী ঘোষনা করবেন৷ ঠিক ঐ মূহূর্তেই গ্রেনেড হামলে পড়ে (হাসিনা হত্যার উদ্দেশ্যে), তার আগেও নয়, পরেও নয়৷ হতভাগী আইভি রহমান সেদিন গুলতির সামনে পড়েন যদিও তিনি হত্যার উদ্দেশ্য ছিলেন না, তিনিসহ ২৪ জন নিহত হন, আহত ৫০০৷ মোটা দাগে চিহ্নিত করার মত আইভি রহমান নিহত হলেন, সেদিনের আইভি হলেন দৈবের পরিহাস মাত্র৷ বুলেট প্রম্নফ গাড়ীতে শেখ হাসিনা বিকেল পাঁচটার সময় সমাবেশে পৌছান৷ স্মরণ করার বিষয় ঐ বক্তৃতায় অতিসাবধানী হাসিনা আওয়ামী লীগ নেতাকমর্ীদের উপর হামলা ও দেশব্যাপী বোমা হামলা বন্ধে সরকারকে হুশিয়ার করেন৷ ঘটানোর আগ থেকেই হুশিয়ারী সংকেত রেডি ছিল! স্বাধীনতার পর থেকে সন্ত্রাসীতে কারা এগিয়ে ছিল জাতির কি এখনো জানা বাকি? বিশ্ববিদ্যালয় ডাকাতের গ্রাম নামে পরিচিতি অর্জন করে৷ পাঠক ঘটনাটি মেলাবেন পিস্নজ, ঠিক পেট্রোল বোমা ছুড়ে বিরোধীর উপর দোষ ছুড়ে দেয়ার মতনই৷ ২০ মিনিটের বক্তৃতা, সব অংক করে কষা৷ ধোয়ায় চারদিক আচ্ছন্ন৷ গাড়ি লৰ্য করে গুলি ছোড়া হয়৷ কোন বেকুব ছাড়া কোন বুদ্ধিমান কখনোই বুলেট প্রম্নফ গাড়িতে এটি করে হাত দাগাতে যাবে বলে মনে হয়না৷ সারা মঞ্চ জুড়ে শত শত সন্ত্রাসী ময়দানে৷ বিরোধী বুদ্ধিমতি হাসিনা সরল অংকটি কষে দেখিয়েছেন৷ ১৫ আগষ্ট যে সাজিয়েছে সেই ২১ ও ১৭ তারিখ সিলেক্ট করেছে৷ সচেতন বিবেককে প্রশ্ন করম্নন৷ আলামতে কি মনে হয়? শত শত মানুষের আর্ত চিত্‍কার, ছিন্ন দেহ, রক্ত, বারম্নদের গোড়া গন্ধ! সরকারের বর্তমান গোলাম মিডিয়া বলবে সবই দিনের আলোর মতই পরিষ্কার৷ আর সচেতনরা দেখেন গভীর রাতের মতই ঘোর অন্ধকার! ঐ সময়কার সরকার বিদেশের সাহায্যও নিয়েছিল সন্ত্রাস উন্মোচনে৷ মিডিয়াতে এটিও এসেছিল, কথা ছিল ময়দানে মঞ্চসভা হবে৷ কিন্তু অতঃপর সেটি হয় ট্রাকের উপর৷ প্রধান আসেন বুলেট প্রম্নফ গাড়ীতে কারণ বিডিআর বিদ্রোহের খবরও প্রধানের জানা ছিল, তাই তিনি সেদিন আগে ভাগেই সটকে পড়েন৷ সেদিনের বোমাও সরাসরি প্রধানের উপর পড়ার কথা নয়৷ তবে আইভির কপালের ফের, তিনি তো আর প্রধান নন! বর্তমান সরকার নাকি এর বিচার করছে৷ বিডিআর বিদ্রোহের বিচারও সরকার করেছে! আগুণও দিয়েছে, পানিও ঢেলেছে, দু কাজেই দৰ এ সরকার৷ সে সময় বিদেশীরা আসলে চাইছিল প্রধাণের গাড়ীটি চেক করতে, কিন্তু ওটি করতে দেয়া হয়নি, গাড়ী চেক করতে না দেয়ার কারণটি কি ছিল? জাতির মনে কি কোনই প্রশ্ন জাগেনি? কিবরিয়া হত্যার কোন কুল কিনারা হয় না৷ কেন? ঐ সময় এটিও পত্রিকার পাতাতে এসেছিল যে ঐদিন কোন কারণে কিবরিয়া ঘটনাস্থলে যেতে চান নি, কিন্তু সরকার প্রধান খুব কৌশলে তাকে ঠেলে পাঠায়৷ সেক্রেটারিয়েটের দিগম্বর কাহিনী কি একদমই ভুলে গেছেন, পাঠকেরা! চারপাশে অজস্র উদাহরণ পড়ে আছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে৷ চোরাই গাড়ীসহ সংসদ সদস্যের পুত্র আটক হলেও ছাড়া পেয়ে যান৷ পুত্রকে ছেড়ে তার বন্ধু রাসেলকে পুলিশ গ্রেফতার করে (১৩-১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, সাপ্তাহিক সুরমা)৷






সন্ত্রাস বিরোধী সভাতে ময়দানের সন্ত্রাসী নায়কদের উপস্থিত না থাকার যুক্তি দেখছি না৷ এটি শুধু ঐ সময় থেকেই নয়, তার বহু আগ থেকেই তারা সন্ত্রাসের শিরোমনি৷ অতি চালাকের গলায় দড়ি বলে একটি কথা আছে! হিন্দুদের মন্দিরে হামলা করে সমানেই বিরোধীর উপর ও জামাতিদের উপর দাগিয়ে দেয়ার খেলা তো গোটা বিশ্বই দেখলো৷ এবার হিন্দু সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে হাসিনার বেয়াইএর বিরম্নদ্ধে, কমিটি গঠন করা হয়েছে তাকে বাঁচানোর জন্য৷ উলেস্নখ্য তিনি এক নামে চিহ্নিত রাজাকার৷ ২২/০৮/২০১৫ তারিখে কলকাতার আনন্দবাজারে লোকদেখানো কমিটি গঠনের খবরটি প্রকাশিত হয়েছে৷ নিজেদের লোক দিয়ে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ সারাদেশেই চলছে বিরোধী নিধনের এ খেলা৷ দেশেও এ সম্পত্তি দখলের প্রতিবাদী ঝড় বইছে৷ রাজাকার বেয়াই হলে মন্ত্রী হওয়া যায়৷ জঙ্গি গীত দিয়ে বিডিআর বিদ্রোহের মোড় ঘুরাতে চেয়েছে সরকার বারে বারে৷ দেশবাসীকে এসব মনে রাখতে হবে মির্জা আজম ছিলেন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক৷ তিনি মনের খেদ মেটাতে পিলখানাতে কর্নেল গুলজারের চোখ উপড়ে ফেলতে ও দেহ নষ্ট করতে নির্দেশ দেন৷ এসবের ভিডিও রেকর্ডও প্রমাণ৷ এর প্রধান কারণ, গুলজারের কারণেই মির্জা আজমের দুলাভাই জেএমবি প্রধান শায়খ আব্দুর রহমানকে ধরা হয় ও পরে ফাঁসি দেয় তত্‍কালীন খালেদা সরকার৷ বিদ্রোহের দিন ঐ আজমের নির্দেশেই গুলজারের লাশ জ্বালিয়ে নষ্ট করা হয়৷ ভুলে যাবেন না ২০০৪ সালে নানক ও আজমের নেতৃত্বে শেরাটন হোটেলের সামনে গান পাউডার দিয়ে দোতলা বাসে আগুন লাগিয়ে ১১ যাত্রীকে পুড়িয়ে মারার ঘটনাতে গুলজারই এদের সনাক্ত করতে সমর্থ হন৷ খবরে প্রকাশ ২০০৯ সালে বিদ্রোহের দিন নানক ও তৌহিদের মাঝে ২০৪ মিনিট কথা হয়৷ ২৫ তারিখ বিকালে শেখ হাসিনার সাথে মিটিং করে তৌহিদ অপরাধীকে নিরাপদে ফেরত যাবার ব্যবস্থা করেন৷ সাহারা খাতুনের নেতৃত্বে রাতের অাঁধারে প্রধানমন্ত্রীর মেডিকেল টিমের অ্যাম্বুলেন্স ও রেড ক্রিসেন্টর অ্যাম্বুলেন্স বাতি নিভিয়ে ঘাতকদের সরিয়ে নেয়৷ শেখ হাসিনার ভাতিজা শেখ মনির ছেলে ব্যারিস্টার তাপস ৩ কিলোমিটার রেডিয়াসের বসতি খালি করে কিলারদের পালিয়ে যাবার ব্যবস্থা করেন৷ প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গির কবির নানক এবং হুইপ মির্জা আজম শ্বেত পতাকা নিয়ে পিলখানা গেটে ঢোকাতে প্রশ্নের জমা কমে নাই বরং বেড়েছে৷ ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বিরোধী নেত্রী হাসিনা ট্রেনে ভোটের প্রচারে৷ রাতে সাংবাদিকেরা ঝিমিয়ে পড়লে, নেত্রী নির্দেশ দেন কয় রাউন্ড গুলি ছুড়তে৷ ট্রেন ঈশ্বরদিতে ঢোকার ঠিক আগে গুলি ছোড়া হয়৷ সঙ্গে সঙ্গে বলা হয় সাংবাদিকদের মাঝে খবর ছড়িয়ে দাও আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল৷ নেতা আমীর হোসেন আমু মাইক নিয়ে মিথ্যা খবর ছড়িয়ে দিলেন আকাশে বাতাসে৷ এর সূত্র ধরে পরদিন হরতাল ডাকা হয়৷ প্রয়োজনে এরা নিজ দলের কমর্ীও হত্যা করে দেলোয়ার ও জাফর, জয়নাল সেলিম এরা তার জ্বলজ্যানত্ম উদাহরণ৷ সম্প্রতি পড়লাম তাকে নাকি১৯বার হত্যার চেষ্টা করা হয়৷ কি কারণে তাকে ১৯বার হত্যার চেষ্টা আর ধূর্ত এরশাদকে মানুষ একবারও মারতে যায় না৷ কারণটি কি? বাংলাদেশের মানুষের স্বভাব কি বদল গিয়া? 
 
সাঈদীর মামলা সাজাতে সুখরঞ্জন বালী নাটক, উষা রাণী, উত্তম মালাকার, মধুসূদন ও হরেণ ঠাকুর, সতিশ বালা চিত্তরঞ্জন তালুকদার, মুখেন ঠাকুরের প্রসঙ্গ আমরা ইউটিউবে দেখি৷ বালী বলেন, তাকে নানাভাবে শাসকপৰ চাপের মাঝে রেখেছে৷ ভারতে বন্দীত্ব, সালাহউদ্দিন নাটক, রেশমা নাটক, ইয়াসমিন নাটক কত আর বলা যায়? মহাভারত লিখা যাবে এদের বিরম্নদ্ধে৷ তাই এরা এমনই সন্ত্রাসী যে এসব বলতেও রম্নচিতে বাধে, এরা জন্মসন্ত্রাসী৷ নিজের দলের লোক মেরে রাজনীতির স্বাৰর রাখে, গিস্নসারিনের অভিনয় করার মত নেতা এরা৷ হাসিনা সরকারের প্রাইভেট সেক্রেটারী থরে বিথরে লিখে এসব কষ্টের কথা প্রকাশ করেছেন, যা গোটা জাতিই আজ জানে৷ এসব অপকর্ম গোটা জাতীয় জীবনের কলঙ্ক হয়ে বিবেকের কামড় হয়ে আছে৷ আজো সন্ত্রাসের দংশণে গোটা জাতি কুকড়ে মরছে৷ যদিও এত এত যুক্তির পরই লেজকাটা কিছু শিয়ালসহ প্রধানমন্ত্রী বলতেই পারেন যে, গ্রেনেড হামলায় খালেদার জড়িত থাকা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই৷ 

২৪ আগষ্ট ২০১৫ সাল৷ 

Extreme Tracker

eXTReMe Tracker

Followers

Google Analytics


Learn chess strategies!